ওয়ানডের দুঃস্মৃতি ভুলে টেস্ট সিরিজে নামছে টাইগাররা
স্পোর্টস ডেস্ক: তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর এবার ভালো করার লক্ষ্য নিয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট লড়াই শুরু করবে টাইগাররা। ওয়ানডের দুঃস্মৃতি ভুলে গিয়ে টেস্ট সিরিজে ভালো করতে মরিয়া টাইগাররা। আগামীকাল থেকেই শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। হ্যামিল্টনে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম টেস্ট। ওয়ানডেতে না পারলেও টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিবে বলে মনে করে নিউজিল্যান্ড।
ওয়ানডেতে ভালো করতে মুখিয়ে ছিল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডে আসার আগে অন্তত একটি ওয়ানডে জয়ই ছিলো টাইগারদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সবগুলোতেই হারে তারা।ওয়ানডে সিরিজের দুঃস্মৃতি এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলাদেশের চারপাশে। তবে মূল লড়াইয়ে নামার আগে একটি প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। সেখানে আলোকিত ছিলো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। নিউজিল্যান্ড একাদশের বিপক্ষে দু’দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনই ৪১১ রান তুলে নেয় বাংলাদেশ।
ব্যাট হাতে ওপেনার সাদমান ইসলাম ৬৭, লিটন দাস ৬২, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৫৯, মেহেদি হাসান মিরাজ ৫১, তামিম ইকবাল ৪৫ ও সৌম্য সরকার ৪১ রান করেন। ব্যাটসম্যানদের অনুশীলন ভালো হলেও, বোলাররা নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। কারণ বৃষ্টির কারণে দ্বিতীয় দিন মাত্র ১২ ওভার খেলা হয়। তবে ঐ ১২ ওভারে আশা জাগানিয়া পারফরম্যান্স ছিল বাংলাদেশ বোলারদের। প্রতিপক্ষের ২টি উইকেটের পতন ঘটান তারা। কাটারমাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ও এবাদত হোসেন ১টি করে উইকেট নিলে শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ড্র হয়।
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে খেলা যে কত কঠিন, তা আবারো বুঝলো বাংলাদেশ। ওয়ানডে সিরিজে তা হারে হারে টের পেয়েছে। এবার টেস্ট সিরিজ, এটিই যে আরও বড় পরীক্ষা তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেশ ছাড়ার আগে টেস্ট সিরিজকে অনেক বেশি কঠিন বলে মন্তব্য দলের কোচ স্টিভ রোডস, ‘টেস্ট সিরিজটি আমাদের জন্য অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। সেখানকার কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিয়ে পারফর্ম করাটা কঠিন হবে।’
নিউজিল্যান্ডের পেস-সুইং নিয়ে অনেক বেশি চিন্তিত রোডস, ‘আমরা বুঝতে পেরেছি, বিদেশের মাটিতে ভালো করতে হলে প্রতিপক্ষ বোলারদের পেস ও সুইং কব্জা করতে হবে আমাদের। এসব নিয়ে গেল ছয় মাস ব্যাটসম্যান ও বোলাররা কাজ করেছে। শুধুমাত্র এই সিরিজকে সামনে রেখে নয়, নিজেদের ভালোভাবে প্রস্তুত করাই প্রধান লক্ষ্য ছিলো।’নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের আগের সফরগুলোর ফলও তেমনটাই বলছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এখন পর্যন্ত ৭টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। সবগুলোতে বড়-বড় ব্যবধানে হেরেছে টাইগাররা। কোন ম্যাচেই লড়াইয়ে ছিটেফটাও দেখাতে পারেনি তারা। তবে দেশের মাটিতে ছয়টি টেস্টের মধ্যে ৩টি ম্যাচ ড্র করতে পারে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জন নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কতটা কাজে আসে সেটাই দেখার বিষয়।
তারউপর সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলছেন না নিয়মিত অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনালে হাতের আঙ্গুলের ইনজুরিতে পড়েন তিনি। তাই ওয়ানডে সিরিজে খেলতে পারেননি সাকিব। ঐ ইনজুরির কারণে হ্যামিল্টন টেস্টে নেই সাকিব। পরের দু’টি টেস্টে খেলবেন কি-না এখনো নিশ্চিত নয়।তবে যাই হোক না কেন, টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিবে মনে করছেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান হেনরি নিকোলস। তিনি বলেন, ‘টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জ দিবে আমাদের, এটি বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশের র্যাংকিং নিয়ে সবাই কথা বলবে। তবে এগুলো না ভেবে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ সামলানোই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’
সদ্যই দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে হারায় শ্রীলংকা। লংকানদের এমন জয়ে টেস্ট র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে নিউজিল্যান্ড। এই প্রথমবারের মত নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে দ্বিতীয়স্থানে উঠলো কিউইরা। নিজেদের এমন অর্জন ধরে রাখতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে ভালো করার কথা বললেন নিকোলস। তিনি বলেন, ‘গত ১২ মাস আমরা টেস্টে কেমন পারফরম্যান্স করেছি, সেই প্রমাণ র্যাংকিংয়ে। এই অবস্থান ধরে রাখতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করতে চাই আমরা।’
২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৯টি টেস্ট সিরিজ খেলে বাংলাদেশ। যার মধ্যে পাঁচটিতে ড্র ও চারটি সিরিজ হারে টাইগাররা। তবে ২০১৮ সালে চারটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে ২টিতে হার, একটি করে জয় ও ড্র করে বাংলাদেশ। গেল নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছিলো টাইগাররা। দুই ম্যাচের সিরিজে ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ।টেস্ট ফরম্যাটে দারুণ এক সময় পার করছে নিউজিল্যান্ডও। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে টানা চারটি টেস্ট সিরিজ জিতেছে কিউইরা। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে এই প্রথমবার টানা চার টেস্ট সিরিজ জিতে নিউজিল্যান্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার বিপক্ষে চারটি টেস্ট সিরিজ জয় করে নিউজিল্যান্ড।
বাংলাদেশ দল (সম্ভাব্য):মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, সাদমান ইসলাম, মোহাম্মদ মিঠুন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, আবু জায়েদ, খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন।
নিউজিল্যান্ড দল (সম্ভাব্য):কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), টড অ্যাস্টল, ট্রেন্ট বোল্ট, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, ম্যাট হেনরি, লম লাথাম, হেনরি নিকোলস, জিত রাভাল, টিম সাউদি, রস টেইলর, নিল ওয়াগনার, বিজে ওয়াটলিং ও উইল ইয়ং।




