গাছ খেয়েছে ছাগলে, লাঞ্ছিত হলো ছাত্রী, অপমানে আত্মহত্যা!
নিউজ ডেস্ক।। গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নে ছাগলে গাছ খাওয়ায় লাঞ্ছিত হয় স্কুলছাত্রী শ্রাবন্তী রানী যমুনা (১৪)। পরে অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে সে। গতকাল সোমবার বিকেলে ইউনিয়নের ধনকুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রাবন্তী রানী যমুনার বাবার নাম গঙ্গা রায়। যমুনা স্থানীয় লক্ষীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।
যমুনার মা দীপ্তি রানী জানান, কিছুদিন আগে তিনি ও তার স্বামী চারটি ছাগল কেনেন। গতকাল একটি ছাগল তাদের প্রতিবেশী তপন কুমার সরকারের বাড়ির উঠানে ঢুকে গাছের পাতা খেয়ে ফেলে। এ ঘটনায় ওই ছাগলটিকে বেঁধে রাখেন তপন। পরে তিনি ও তার মেয়ে শ্রাবন্তী সেখানে গিয়ে ছাগল ফেরত চান। এ সময় তপন ও তার ছেলে লিখন তাকে বেঁধে রাখেন। এ ঘটনায় শ্রাবন্তী প্রতিবাদ করলে বাবা-ছেলে মিলে তার চুলের মুঠি ধরে টেনে-হিঁচড়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। পরে কোনো রকম সেখান থেকে পালিয়ে আসেন তারা। অপমান সইতে না পেরে রাতে তার মেয়ে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না বেঁধে আত্মহত্যা করে।
লক্ষীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক রেজাউল করিম রেজা আমাদের সময়কে জানান, তাদের ছাত্রী শ্রাবন্তীর বাবা-মা কিছুটা মানষিক ভারসাম্যহীন। মেয়ের লেখাপড়ার খরচ চালাতে তারা ছাগলগুলো কিনেছিলেন। কিন্তু এই ছাগলগুলোই তাদের কাল হয়ে দাঁড়াল। এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন জানান, ছাগলে গাছের পাতা খেয়েছে। তার জন্য তপন ও লিখন মা-মেয়ের সঙ্গে অন্যায় ব্যবহার করেছিল। তাদের দুজনকে লাঞ্ছিত করায় অপমান সইতে না পেরে আত্মহত্যা করে শ্রাবন্তী।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার আমাদের সময়কে বলেন, খবর পেয়ে আমি সেখানে থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) জান্নাতী ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) জাহিদকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। তারা যে প্রতিবেদন আমাকে দিয়েছে তাতে লাঞ্ছিতের ঘটনায় অপমানে আত্মহত্যাই প্রতীয়মান। নিহত মেয়েটির লাশ সুরতাহাল করা হয়েছে।
ওসি জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা নারী শিশু নির্যাতন ও আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী হিসেবে তপন-লিখনসহ তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।




