268661

বিয়ের দেড় মাসের মাথায় স্ত্রীকে হত্যা, আটক হয়নি ঘাতক স্বামী

বিয়ের মাত্র দেড় মাস না যেতেই স্বামীর বাড়িতে নির্মমভাবে নিহত কলেজ ছাত্রী সাজিয়া আফরিন রোদেলা (১৮) হত্যাকান্ডের দুই বছরপূর্তি হচ্ছে বুধবার। দীর্ঘ এই সময় মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন রোদেলার বাবা-মাসহ স্বজনেরা। তবে এখনো গ্রেফতার হয়নি ঘাতক স্বামী সোহানুর রহমান (২৮)।ফরিদপুরের সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনার্সের মেধাবী ছাত্রী সাজিয়া আফরিন রোদেলা শহরের আলিপুর খাঁ-বাড়ি মহল্লার শওকত হোসেন খান ওরফে শকার একমাত্র মেয়ে। ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারী গোয়ালচামটের নতুন বাজার মহল্লার জনৈক মমিনুর রহমান সেন্টুর ছেলে সোহানুর রহমান সোহানের সাথে তার বিয়ে হয়। অপার সম্ভাবনাময় প্রাণের প্রিয় এই সন্তানের ২য় মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিহত সাজিয়া আফরিন রোদেলার মা রুমা খান জানান, গত দুই বছর যাবত আমরা বিচারের আশায় আদালতের বারান্দায় ঘুরছি। এখনো রোদেলার ঘাতক স্বামী গ্রেফতার হয়নি। মামলাটিকে দীর্ঘায়িত করতে নানাভাবে অপচেষ্টা চালাচ্ছে প্রভাবশালী আসামীরা। তিনি রোদেলা হত্যা মামলার আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও শাস্তি দাবি করেন।মামলা সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য রোদেলাকে চাপ দিতে থাকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। এজন্য তাকে নানাভাবে মানসিক নির্যাতন করতে থাকে তারা। একপর্যায়ে রাতের বেলা স্বামী, শাশুড়ি ও ননদ মিলে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে রোদেলাকে। ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে বর্তমানে এ মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে। মামলা নং- ৪১৭/১৭।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই গাফফার জানান, রোদেলার লাশের ভিসেরা রিপোর্টে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। ব্যাপক তদন্ত শেষে স্বামী সোহানসহ ৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট প্রদান করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামীরা হলেন- রোদেলার ননদ সুমি বেগম (৪০), শাশুড়ি আনোয়ারা বেগম (৫৫), ভাসুর মোঃ সুমন (৩৬), ভাসুরের স্ত্রী রেখা বেগম (২৫), শ্বশুর মোমিনুর রহমান সেন্টু (৬৫), ননদের স্বামী মোঃ হাফিজ (৪৫) ও সোহানের মামাতো ভাই সাজিদ (৪২)।

জানা গেছে, মামলার অন্য আসামীরা আদালত থেকে বর্তমানে জামিনে রয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই মামলার প্রধান আসামী ও রোদেলার স্বামী সোহানুর রহমান পলাতক রয়েছে। তবে সোহানকে আটকে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।নিহত রোদেলার পিতা শওকত হোসেন খান বলেন, এ মামলায় ১৭ জন স্বাক্ষী রয়েছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে চার্জশীট দাখিল করেছে। আশা করছি আসামীদের গ্রেফতারে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর দ্রুতই চার্জ গঠন হবে। সূত্র: নয়া দিগন্ত

ad

পাঠকের মতামত