পছন্দনীয় সময়ে ভারতকে উপযুক্ত জবাব দেবে পাকিস্তান: ইমরান খান
ভারতের হামলার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে জরুরি বৈঠকে বসেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।বৈঠকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় হামলাকে চূড়ান্ত আগ্রাসন বলে মন্তব্য করা হয়। পরে ইমরান খান বলেন, ‘পছন্দনীয় সময়ে এবং সঠিক জায়গায় উপযুক্ত জবাব দেবে পাকিস্তান।’বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে ইমরান খান সশস্ত্র বাহিনী ও দেশের সাধারণ মানুষকে সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
এই অঞ্চলে ‘ভারতের দায়িত্বহীন নীতি’কে বিশ্ব নেতাদের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির জরুরি ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা ও অর্থমন্ত্রী, জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান ও অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির এই বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতীয় সরকার আরেকবার তাদের আত্মস্বার্থে বেপরোয়া কাল্পনিক দাবির আশ্রয় নিয়েছে।নির্বাচনী পরিস্থিতির কারণে ঘরোয়া রাজনীতি চাঙ্গা রাখতে ভারত সরকার এমন পদক্ষেপ নিয়েছে। এভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা গুরুতর ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারত যেস্থানে হামলা করার দাবি জানিয়েছে, সেখানে সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য বিশ্বের জন্য স্থানটি খোলা রাখা হয়েছে।‘ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভারত অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে যে আগ্রাসন চালিয়েছে, সময় ও স্থান অনুসারে পাকিস্তান তার জবাব দেবে।’বৈঠকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, অর্থমন্ত্রী ও সেনাপ্রধান উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৪ ফেব্রুয়ারির ওই হামলার পর ১২ দিনের মাথায় মঙ্গলবার লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে পাকিস্তানের অন্তত তিনটি স্থানে হামলা চালিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী। প্রতিবেশী দেশ দু’টি আগে থেকেই যুদ্ধের ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও নতুন এ হামলার পর সেই ঝুঁকি এখন অনেকাংশে বেড়ে গেল। নয়াদিল্লির ‘আগ্রাসনে’র পর বল এখন ইসলামাবাদের কোর্টে। এখন যেকোনো মুহূর্তে ভারতের অভ্যন্তরে হামলা চালাতে পারে পাক বাহিনী। ফলে পুরোদমে বেঁধে যেতে পারে আরেকটি রক্তক্ষয়ী পূর্ণযুদ্ধ। সেই আশঙ্কা থেকে ইতিমধ্যে সতর্কসংকেত দিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর দাবি, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত জঙ্গি আস্থাগুলোতে হামলা চালিয়েছে তারা। তবে পাকিস্তান হামলা চালালে ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যের সেনাঘাঁটি কিংবা বিমানঘাঁটিগুলোতে টার্গেট করতে পারে। মঙ্গলবার ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।এদিকে পাকিস্তানে ভারতের বিমান হামলার পর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর উপত্যকাজুড়ে থমথমে ভয়ের পরিবেশ বিরাজ করছে। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে ফের অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অভিযানে দুইশ’র বেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জামাতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভারতের সুপ্রিমকোর্টে আর্টিকেল ৩৫(এ)-র শুনানি সামনে করে ওই উপত্যকাজুড়ে ওই অভিযান চালানো হয়। এর আগেই অতিরিক্ত ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়। সূত্র: যুগান্তর




