268175

দুবাই যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় পলাশ

ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ ছিনতাইকারী কথিত মাহাদী আসলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের দুধঘাটা গ্রামে পিয়ার জাহান সরদারের ছেলে মো. পলাশ আহমেদ। বিষয়টি তার বাবা ও মা নিশ্চিত করেছেন।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের দিকে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুরের তাহিরপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে মাহমুদ পলাশ দাখিল পাস করে। এরপর সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও সে পড়াশোনা শেষ করতে পারেনি।

সোনারগাঁও থানার এসআই আবুল কালাম জানান, পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে একটি তথ্য আসে যে মেহেদী বা মাহাদী হাসান নামের বা এ ধরনের কেউ দুবাই যাবে এমন কেউ সোনারগাঁওয়ে আছে কিনা। পাশাপাশি মৃতদেহের একটি ছবি পাঠানো হয়েছিল। ওই ছবি নিয়ে তিনি রাতে পলাশদের বাড়িতে গেলে তার পরিবার এটা পলাশের ছবি বলে নিশ্চিত করে।তিনি জানান, ছবি দেখে এবং দুবাই যাওয়ার বিষয়টি মিলিয়ে পরিবার নিশ্চিত হয় নিহত ব্যক্তিই হচ্ছে মাহমুদ পলাশ।

পলাশের পিতা প্রবাসী ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে সে বিদেশে অবস্থান করে আসছিলেন। প্রথমে কুয়েত এবং পরে সৌদি আরবে ছিলেন তিনি। প্রবাসী বাবার দেয়া টাকা-পয়সা নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করে আসছিলেন পলাশ।পলাশের বাবা গত সাত বছর আগে বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসেন। এলাকায় একটি মুদি দোকান দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।একটা সময় বাসা ছেড়ে ঢাকায় চলে যায় পলাশ। বাড়িতে তেমন যাওয়া-আসা ছিল না। মাঝেমধ্যে টাকার প্রয়োজন হলে বাড়ি যেত।

পলাশের বাবা বলেন, গত ২০-২৫ দিন আগে বাড়িতে আসে পলাশ। সাধারণত বাড়িতে সে এত দিন থাকত না। গত ২০-২৫ দিনে অনেকটা পাল্টে যায় সে। মসজিদে যাওয়া-আসা করে, এমনকি নামাজের জন্য আজানও দিয়েছে সে।তিনি জানান, গত শুক্রবার বাসা থেকে বিদায় নেয়ার সময় তার মাকে বলে যায়- ভ্রমণ ভিসায় আমি দুবাই যাচ্ছি। তবে দুবাই যাওয়ার বিষয়ে বাবাকে কিছু বলেননি পলাশ।প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের ‘ময়ূরপঙ্খী’ উড়োজাহাজ রোববার ছিনতাইকারীর কবলে পড়েছিল।

প্রায় দুই ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি ছিনতাই চেষ্টার অবসান হয়। এর আগে উড়োজাহাজটি থেকে যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়।কমান্ডো অভিযানে উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী তরুণ নিহত হন। টিকিটে তার নাম মো. মাজিদুল বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল। পরে আবার জানানো হয় তার নাম মাহাদী। সূত্র: যুগান্তর

ad

পাঠকের মতামত