ঠাকুরগাঁওয়ে ভেঙে পড়া ব্রিজের পুরাতন পিলারেই কোটি টাকা ব্যায়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ব্রিজ
ঠাকুরগাঁও শহরের ফাঁড়াবাড়ি রোডে সেনুয়া নদীর ওপর ভেঙে পড়া বেইলি ব্রিজটি ১ জোড়া পুরাতন পিলারের ওপরে শুরু হয়েছে নতুন ব্রিজ নিমার্ণের কাজ। একদিকে পুরাতন পিলার, অপর দিকে ব্রিজটি ভাঙার জন্য দায়ী ব্যক্তির হাতেই নতুন ব্রিজ নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ যাওয়ায় জনমনে হতাশা দেখা দিয়েছে।পুরনো ব্রিজটি ভাঙার জন্য দায়ী ব্যক্তিই পেয়েছেন নতুন ব্রিজের কাজ। ৩ কোটি টাকার কাজ। তারপর তিনি পুরাতন পিলারে নতুন ব্রিজের কাজ শুরু করেছেন।
বরুনাগাঁও এলাকার শাওন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে নতুন ব্রিজ নির্মাণ হচ্ছে। এলাকার জন্য এটা খুব ভাল খবর। কারণ, কষ্টের অবসান হতে যাচ্ছে। কিন্তু এ কেমন বিচার! যে ব্রিজ ভাঙলো সেই আবার ঠিকাদারি কাজ করছে। তারপরেও ৬ টি পিলারের মধ্যে ২ টি পুরাতন। যে পিলারে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যায় সে পিলারে বড় ব্রিজ হচ্ছে। ভবিষ্যতে কিছু হলে আমাদের কি হবে?’উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও শহরের সেনুয়া বেইলি ব্রিজটি মালবাহী ট্রাকসহ ভেঙে পড়েছিল ২০১৭ সালের ৮ ডিসেম্বর। ওই সময় ব্রিজের ওপরে থাকা বরুনাগাঁও এলাকার ধন মোহাম্মদের ছেলে আইনুল হক (৬৫) নামের একজন পথচারি আহত হয়েছিলেন।
একই এলাকার আব্দুল আওয়াল বলেন, ‘মনে করেছিলাম নতুন ব্রিজ হচ্ছে। সব নতুন হবে। এখন দেখি ভিত্তিটায় পুরাতন। ব্রিটিশ আমলের বেইলি ব্রিজের পুরাতন পিলারে এত টাকা ব্যয়ে নতুন ব্রিজ হবে ভাবতে পারিনি! কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করছি তারা যেন সঠিক নজরদারিতে ব্রিজের কাজ শেষ করে।’এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় সদর উপজেলার সঙ্গে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পরে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। তবে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭০ মিটার ব্রিজের ৩ জোড়া পিলারের মধ্যে ১ জোড়া পুরাতন পিলার থাকায় জনমনে হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, শহরের বরুনাগাঁও এলাকায় অবস্থিত সেনুয়া বেইলি ব্রিজটি দীর্ঘদিন আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ। ওইদিন রাতে শহরের ঠিকাদার রাম বাবুর ভাটায় কয়লা নেওয়ার সময় একটি দশ চাকার ট্রাক ব্রিজের ওপর ওঠামাত্র সেটি ভেঙে পড়ে। সেই রাম বাবুই আবার ব্রিজ নির্মাণের ঠিকাদারি কাজ পাওয়ায় বেশ উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে।ঠাকুরগাঁও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কান্তেশ্বর বর্মন বলেন, ‘সেনুয়া বেইলি ব্রিজটি অনেকদিন আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবুও ওই ব্রিজটি দিয়ে মানুষ ভারি যানবাহন নিয়ে চলাচল করছিল। ফলে ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। ব্রিজটি নতুনভাবে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি কিছুদিনের মধ্যে মানুষের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা দেওয়া হবে।’
পুরাতন পিলারে নতুন ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্রিজটিতে ছয়টি পিলারের মধ্যে ২ টি পিলার আগের। অভিজ্ঞদের মাধ্যমে দেখা গেছে পিলার ২টি অনেক মজবুত আছে। পিলার ২টি পুরাতন হলেও নতুন পিলারের কোন অংশে কম নয়। তাই সেইভাবে বাজেট করে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন পিলারে ব্রিজটি করতে ব্যয় আরও অনেক বেড়ে যেত। প্রকৃত ঠিকাদার দ্বারা নতুন ব্রিজ ভালভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির কোন সম্ভবনা নাই। আর পুরাতন বেইলি ব্রিজটির অংশ দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলায় একটি ব্রিজ মেরামত হচ্ছে।’ সূত্র: বাংলাদেশ টুডে




