268230

এক মিনিটের ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড পাথরঘাটা

বরগুনার পাথরঘাটায় আকস্মিক এক ঘূর্ণিঝড়ে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ী লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সোমবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের কুপধোনসহ বিভিন্ন এলাকার এ ঘটনা ঘটে। এক মিনিটের চেয়েও কম সময়ের এ ঘূর্ণিঝড়ে এতে চারজন আহত হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া ঘূর্ণিঝড়টিতে মুহূর্তের মধ্যেই কালমেঘা ও কামারহাট বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় ৬৫টি ঘর উড়ে যায়।

কালমেঘা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মোস্তফা বলেন, এক মিনিটের চেয়ে কম সময়ের ঘূর্ণিঝড়ে এক গ্রামের ২৯টি বসতঘর ভেঙে পড়ে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।পল্লী বিদ্যুতের পাথরঘাটা উপকেন্দ্রের উপকূলীয় রিসিপশনের দায়িত্বে থাকা মো. নাজমুল হাসান জানান, হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বিদ্যুতের তিনটি খুঁটি ভেঙে গেছে। এ সময় গাছের ডাল ভেঙে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের কেবলও ছিড়ে যায়।

ফলে পাথরঘাটা উপজেলায় বিদ্যুত সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তিন থেকে চার দিন সময় লাগবে। তবে পাথরঘাটা পৌরশহরে রাত থেকেই বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে। তিনি আরো জানান, বিদ্যুতের পাশাপাশি উপজেলায় পানি সরবরাহও বন্ধ থাকবে।এ সময় গাছ পড়ে ৩টি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। উপকূলীয় এলাকায় সকাল থেকেই থেমে থেমে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সেখানে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির সরেজমিন পরিদর্শন করে জানান, ভোর রাতে ঝড়ে পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৬৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়। এছাড়া ঘর চাপা পড়ে ১টি ছাগল মারা গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেয়া হবে। তাছাড়া বিকেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শুকনো খাবার দেয়া হবে।

আরো পড়ুন : ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় হওয়ার কারণ কী   পৃথিবীর দুই অংশের মানুষ এখন তিনটি বড় ধরণের ঝড়ের মোকাবেলা করছে। ভারতের উডিষ্যা রাজ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে আঘাত করেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলি। ভারতের ঠিক অন্যপাশের উপকূলে, আরব সাগরের তীরে আঘাত করতে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় বা সাইক্লোন লুবান। প্রায় ৪০ বছর পর ভারতের একই অংশে একই সঙ্গে দুইটি সাইক্লোন আঘাত করতে যাচ্ছে।তবে বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টিপাত হলেও বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় তিতলির আসার সম্ভাবনা অনেক কম। সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সঙ্কেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আর নদীবন্দর গুলোকে দেখাতে বলা হয়েছে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত।

অনেকটা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে হ্যারিকেন মাইকেল।সবমিলিয়ে এ বছরের দশ মাসেই বিশ্বের দেশগুলোয় ছোট বড় মিলিয়ে ৫০টির বেশি ঝড়ের তৈরি হয়েছে।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যারিকেন ফ্লোরেন্স, হার্ভে, পুয়ের্তো রিকোয় মারিয়া, ফিলিপাইনে সুপার টাইফুন ম্যাঙ্গখুট, হাওয়াই দ্বীপে ঝড় লেন, যুক্তরাষ্ট্রে ঝড় আলবার্তো, সলোমন দ্বীপে লিলুয়া সাইক্লোন, ফিজিতে সাইক্লোন জোসি ছাড়াও অনেকগুলো ভূমিকম্প, বনের আগুন, ভূমি ধসে এবং বন্যার ঘটনা ঘটেছে।ধারণা করা হচ্ছে, এ বছরের বাকি সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলোতেই সাত থেকে ১১টি সাইক্লোনের তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে তিন থেকে চারটি হবে বড় ধরনের।

ad

পাঠকের মতামত