267755

ওসিকে আসামী না করায় হাইকোর্টের বিস্ময়

ওসি কামরুল ইসলাম (বামে) ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার এএসআই সরওয়ার্দী (ডানে) – বাংলাদেশ সরকার যখন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে একের পর এক অভিযান পরিচালনা করে চলছে, ঠিক সে সময়ই তার অধিনস্থ নারায়ণগঞ্জ মডেল থানার ওসি মোঃ কামরুল ইসলামের মাদক চোরাচালানের সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বিপুল পরিমাণ মাদক ও টাকাসহ ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের জামিন শুনানিকালে বুধবার এ বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারক এম এনায়েতুর রহিম ও মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পাশাপাশি বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই মাদক মামলার সাথে ওসি কামরুলের সম্পৃক্ততা থাকা সত্বেও তাকে আসামি না করায় অবাক হয়েছেন হাইকোর্ট।

এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে (সিআইডি) সোমবার কোর্টে উপস্থিত থেকে এর কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সিআইডির কর্মকর্তার কাছে মাদক মামলায় অভিযুক্ত ওসি কামরুলের অবস্থা জানতে চেয়েছেন আদালত। কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের জামিন শুনানি চলাকালীন সময় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেয়া ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও ৫ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার হওয়া নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার সহকারি উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মোঃ আলম সরোয়ার্দী রুবেল ও বন্দর থানার কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পেশ করা হয় হাইকোর্টে। জবানবন্দিতে মাদক চোরাচালানের সাথে ওসি কামরুলের সম্পৃক্ততা থাকা সত্বেও চার্জশীটে তার নাম না থাকায় বিরক্তি প্রকাশ করেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এ বিষয়ে ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ফরহাদ আহমেদ বলেন, গ্রেফতারকৃতদের স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দি অনুসারে ওসি কামরুল, রাজবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক বেলাল উদ্দিন, ডিবির ঢাকা অফিসের কর্মকর্তা হাসান, মুন্সিগঞ্জ ডিবির উপ-পরিদর্শক মোরশেদ, সহকারি উপ-পরিদর্শক সরোয়ার্দী রুবেল, কনস্টেবল আসাদুজ্জামান ইয়াবা চোরাচালানের চক্রটির সাথে জড়িত। ওসি কামরুলের নির্দেশেই এএসআই সরোয়ার্দী রুবেল ইয়াবা বহনকারী আব্দুর রহমান, ছোটন, সাবিনা আক্তার রুনি এবং তার স্বামী সাইদুল ইসলাম আরিফকে ছেড়ে দেয়। পরে বন্দরের এএসআই রুবেলের বাসা থেকে তাদের গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

এ বিষয়ে সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমার এ বিষয়ে কিছু জানা নেই। বিষয়টি সিআইডি কর্তৃক তদন্তাধীন আছে।সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এসএস আরেফিন জুন্নন কনস্টেবল আসাদুজ্জামানের পক্ষে জামিন শুনানি পরিচালনা করেছেন।উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ মার্চ নারায়ণগঞ্জ ডিবি পুলিশ সদর থানার এএসআই মোহাম্মদ সরওয়ার্দীর বাসা থেকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও পাঁচ লাখ টাকা উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আসামি পুলিশ সদস্য আসাদুজ্জামান ও মোহাম্মদ সরওয়ার্দী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে বলেন, এটি তারা নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি কামরুলের নির্দেশে করেছেন। তার নির্দেশেই টাকা ও ইয়াবা রেখে আসামিদের ছেড়ে দেয়া হয়।

জানা গেছে, মাদক ব্যবসীদের আটক করে বাসায় নিয়ে যেত এসআই আলম সরোয়ার্দী রুবেল। পরে দেন-দরবার শেষে ছেড়ে দিত। ঘটনার দিন বিকেলেও ২জনকে হাতকড়া পরা অবস্থায় সে তার ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে। পরে রাতে ছেড়ে দেয়। এর মধ্যে এক নারীর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে সে। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ঐ রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে বন্দরের রূপালী আবাসিক এলাকায় তার ভাড়া ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ডিবি ও বন্দর থানা পুলিশ। এসময় ৪৪ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে এএসআই সরোয়র্দীকে সদর মডেল থানায় ডিউটিরত অবস্থায় আটক করা হয়। এসময় তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে আরো ৫ হাজার পিছ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম সেই সময় বলেন, অভিযান চলাকালে থানা থেকেই এএসআই সরোয়ার্দী রুবেলকে আটক করা হয়। এসময় তার ব্যাগে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত আছে। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র: নয়া দিগন্ত

ad

পাঠকের মতামত