অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান বিএনপির
চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারকে পদত্যাগ করতে আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। রোববার রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত একক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ আহ্বান জানান।সরকার চকবাজার ট্র্যাজেডির দায় এড়াতে পারে না- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আমি সরকারকে বলবো, এই ঘটনার দায় যেহেতু স্বীকার করেছেন এখন পদত্যাগ করুন। পৃথিবীর কোন গণতান্ত্রিক সভ্য দেশে এই বিভীষিকাময় ঘটনা ঘটলে দায় স্বীকার করে সরকার পদত্যাগ করতো।
চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি গভীর উদ্বেগ-উৎকন্ঠা এবং আতঙ্কের সঙ্গে বলছি, আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা বেগম খালেদা জিয়াকে যে পরিত্যক্ত কারাগারে অবরুদ্ধ রাখা হয়েছে তার চারপাশে রাসায়নিক বিস্ফোরকের ডিপো। চুড়িহাট্টার ওয়াহেদ ম্যানসন থেকে নাজিমউদ্দিন রোডে বেগম জিয়া কারা প্রকোষ্ঠের দূরত্ব মাত্র দেড় থেকে দুই শত মিটার। খুব কাছে হওয়ায় এই কারাগারের পুকুরে পাম্প বসিয়ে অগ্নিকাণ্ডের রাতে সেখান থেকে পাইপে নন্দ কুমার দত্ত রোড দিয়ে চুড়িহাট্টায় পানি নিয়েছিলো দমকল বাহিনী।
রিজভী বলেন, আমরা উৎকন্ঠিত হয়ে পড়ি পরিত্যক্ত কারাগারে একমাত্র বন্দী বিএনপির চেয়ারপারসনকে নিয়ে। তিনি গুরুতর অসুস্থ। বসতে পারছেন না। হাঁটাচলা করতে পারছেন না। তাকে যখন কারাগারে নেয়া হয় তখন তিনি হেঁটে কারাগারে ঢুকলেন। আর এখন তিনি হুইল চেয়ারে করে আদালতে আসছেন। সরকারের কি ভয়ঙ্কর নির্মমতা! চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের দিন সারারাত চারদিকে বিকট শব্দ, মানুষের আর্তচিৎকার, রাসায়নিক বিস্ফোরণের ভয়ঙ্কর ও বিকট শব্দ গ্রাস করেছিল আশপাশের সকল এলাকা। অল্প দূরত্বে নির্ঘুম উৎকন্ঠায় কেটেছে চরম অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়ার। আর আমরা গভীর উৎকন্ঠা নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে তার নিরাপত্তার জন্য দোয়া করেছি। তাকে এক অশুভ উদ্দেশ্যে ভয়াবহ বিপদজ্জনক পরিবেশে বন্দী করে রেখেছে অবৈধ শাসকগোষ্ঠী।
তিনি বলেন, ওয়াহেদ ম্যানসনের বেজমেন্টে লাশের সন্ধানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গতকাল বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যালের চোরাই গোডাউনের সন্ধান পেয়েছেন। সেখানে শত শত বস্তা, প্লাষ্টিকের ড্রাম আর টিনের মাঝারি সাইজের ড্রামে আয়রন অক্সাইড, আয়রনিক ইয়ালো, অক্সাইড রেডবার ও এসিড গ্রিন পেয়েছেন। তারা বলেছেন, কোনোভাবে আগুন নিচে গেলে এমনভাবে বিস্ফোরণ ঘটতো যা বিল্ডিংটি উড়িয়ে নিয়ে যেত। তখন এই আগুন এক থেকে দুই শত মিটার পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়তো। কী হতো জানিনা, এটি ভাবলেই অজানা আশঙ্কায় শিউরে উঠতে হয়। তখন কারাগারে বেগম জিয়ার কি হতো তা মহান আল্লাহ জানেন। এ নিয়ে কথা বলতে গা শিউরে উঠছে। খালেদা জিয়ার কারাগারের চারদিকে এই বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থের গুদাম, কারখানা ও দোকান ভরা। গোপনে এরকম কত কেমিক্যাল গোডাউন আছে তা খোদ কর্তৃপক্ষই জানেনা। গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারী থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে যে কক্ষে বন্দী রাখা হয়েছে তার ১৫০ গজের মধ্যে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আল্লাহর রহমতে সেই অগ্নিকাণ্ড ভয়াবহ রূপ নেয়নি।
রিজভী বলেন, শুধুমাত্র প্রতিহিংসার লেলিহান অনলে দগ্ধ শেখ হাসিনা অবৈধ ক্ষমতার জোরে এমন একটি কেমিক্যাল বিস্ফোরক বেষ্টিত ভয়ংকর বারুদের ডিপোর মাঝখানে আতঙ্কজনক পরিবেশে খালেদা জিয়াকে এক বছর বন্দী রেখেছেন। সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল




