266869

ওয়াহেদ ম্যানশন ‘বোমায়’ ঠাসা!

নিউজ ডেস্ক।। হঠাৎ করেই আগুন দেখা গেল, দাউ দাউ করে জ্বলছে চারতলাবিশিষ্ট ওয়াহেদ ম্যানশন। দ্রুত এ ভবনটির আগুন ছড়িয়ে পড়ল পাশের আরও চারটি ভবনে। এর মধ্যেই একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত। উপরন্তু আগুনের লেলিহান শিখা সর্বগ্রাসী হয়ে উঠেছে। পুড়ে যাচ্ছে মানুষ, পুড়ছে বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পণ্যদ্রব্য; অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে রাস্তার পথচারী, যাত্রী, যানবাহন। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকা-ের এমন ভয়াবহতায় মানুষমাত্রই হতবাক, বিস্মিত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাহ্য রাসায়নিকের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এত বিপুল পরিমাণ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে; ক্ষয়ক্ষতি এত ব্যাপকতা পেয়েছে। কিন্তু এর চেয়েও উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে, যে ওয়াহেদ ম্যানশন থেকে আশপাশের ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল, সেই ভবনটির বেসমেন্টে বিপুল পরিমাণ দাহ্য রাসায়নিকের সন্ধান পাওয়া গেছে গতকাল। অভিযানে যুক্ত কর্মকর্তারা বলছেন, আগুনের শিখা কোনোক্রমে বেসমেন্ট পর্যন্ত পৌঁছলে শুধু ওয়াহেদ ম্যানশনই নয়, আশপাশের ভবনগুলোও উড়ে যেত; আগুন ও রাসায়নিকের তেজষ্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ত পুরো এলাকায়। এর জেরে যে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত, তা কল্পনা করতেই শরীর হিম হয়ে যাওয়ার দশা। অর্থাৎ পুরো ওয়াহেদ ম্যানশনই যেন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে সক্ষম একটি বোমা, যা নিমেষেই ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে একটি জনপদ।

তবে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে এর উল্টো তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মফিজুল হক স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চকবাজারের অগ্নিকা-স্থলের আশপাশে রাসায়নিকের কোনো কারখানা বা গোডাউন ছিল না। এলাকাবাসীও তাদের বক্তব্যে জানিয়েছেন, এ অগ্নিকা-ের কারণ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, হাসপাতালের চিকিৎসকরাও নিশ্চিত করেছেন যে, অগ্নিদগ্ধ, ভর্তিকৃত রোগীদের কারও শরীরে কেমিক্যালের চিহ্ন অথবা গন্ধ পাওয়া যায়নি।

এদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল অগ্নিকা-ে আহতদের দেখতে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে যান। এর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিমতলীর ঘটনার পর আরও সতর্কভাবে নজরদারি চালানো হলে চকবাজারের অগ্নিকা-ে বিপুল প্রাণহানি হয়তো এড়ানো যেত। তিনি আরও বলেন, দেশে কিছু ঘটলে সরকার এর দায় এড়াতে পারে না, এটা সত্য কথা। কিন্তু যারা এ ব্যবসায় জড়িত, তাদেরও সচেতন হওয়া দরকার।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও চকবাজার অগ্নিকা-ে দগ্ধ ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীনদের এদিন দেখতে যান। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের কাছে তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। আহতদের স্বজনের সঙ্গেও কথা বলেন। ভয়াবহ অগ্নিকা-ের পর গতকাল শুক্রবারও ওয়াহেদ ম্যানশনে চলে অভিযান। এ সময় বিভিন্ন ধরনের ভারী রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যাপক মজুদের সন্ধান পায় ফায়ার সার্ভিস। ভবনটির বেসমেন্ট থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গতকাল শত শত বস্তা প্লাস্টিক ও টিনের ড্রামভর্তি রাসায়নিক বের করে আনেন। গতকালের অভিযানে কোনো মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ওয়াহেদ ম্যানশনে বিচ্ছিন্ন একটি পোড়া হাতের দেখা পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা এটি শিশুর হাত বলে ধারণা করছেন।
এদিকে চুড়িহাট্টা অগ্নিকা-ে গতকাল রাত পর্যন্ত ৬৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৬ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন। আর পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া ১৮টি মরদেহ তাদের প্রিয়জনের হতে পারে, এমন সম্ভাবনা থেকে ৩০ স্বজন গতকাল সিআইডিকে তাদের ডিএনএ নমুনা দিয়েছেন। এ ছাড়া কোনোভাবেই চেনার উপায় নেইÑ এমন ৩টি মরদেহের স্বজন-দাবিদার কেউ না থাকায় এগুলোর ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য সংগৃহীত হয়নি। চুড়িহাট্টার মর্মান্তিক অগ্নিকা-ে দগ্ধ-আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। তাদের মধ্যে ৯ জন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের প্রত্যেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

স্মরণকালের ভয়াবহ এ অগ্নিকা-ের জেরে গতকাল পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। অগ্নিদগ্ধ ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়নি বলে জানা গেছে। উপরন্তু আগুন লাগার পর ধসে পড়ার ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় ভবনগুলো ব্যবহার না করার জন্য সেখানে নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকা-ে নিহতদের স্মরণে গতকাল দেশের সব মসজিদে জুমার নামাজের পর বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। এদিন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও বঙ্গভবন জামে মসজিদে হতাহতদের জন্য জুমার নামাজের পর আয়োজিত বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছেন। গতকাল একাধিক সংগঠন অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা ও শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক ব্যবসা, কারখানা ও গুদাম সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে; নিহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্ব¡ালনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয় এদিন।

চকবাজারে অগ্নিকা-ে হতাহতের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো আরাফাত ইসলাম সিয়ামের (১৯) চাচাতো ভাই হাবীবুর রহমান রুবেল গতকাল শুক্রবার চকবাজার থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ওয়াহেদ ম্যানশনের মালিক হাজী আবদুল ওয়াহেদের দুই ছেলে শহীদ ও হাসানসহ অচেনা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে দ-বিধির ৩০৪ (ক), ৪৩৬, ৪২৭ ও ৩৪ ধারায়। জানা গেছে, মামলার পর গা ঢাকা দিয়েছেন শহীদ ও হাসান। এ ছাড়া এ অঞ্চলে যারা অনুমোদনবিহীন রাসায়নিকের ব্যবসা করে আসছিলেন, তাদেরও অনেকেই আপাতত নিজেদের ‘নিরাপদ দূরত্বে’ সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ মামলা ছাড়াও গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে একই থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে আরেকটি মামলা করা হয়েছে ‘অচেনা কয়েকজন’-এর বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত অভিযোগ এনে। এতে বাদী হয়েছেন এসআই দেলোয়ার হোসেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহীম খান দুটি মামলার সত্যতা জানিয়ে গতকাল বলেন, তদন্তসাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত ভয়াবহ এ অগ্নিকা-ে এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা যায়।
এদিকে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ওয়াহেদ ম্যানশনের বেসমেন্টে মজুদকৃত বস্তা ও ড্রামগুলোর রাসায়নিকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার পর দেখা গেছে, এগুলোয় আয়রন অক্সাইড, আয়রনিক ইয়েলো, ইঞ্জিনিয়ারিং কার্বন, অক্সাইড রেড বার ও অ্যাসিড গ্রিন রয়েছে। এসব অতি দাহ্য রাসায়নিকে আগুন লাগলে ওয়াহেদ ম্যানশন তো বটেই, আশপাশের বেশ কয়েকটি ভবনও বিস্ফোরণে উড়ে যেত; আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারত পুরো এলাকায়। এতে করে তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হতো হাজার হাজার মানুষ। ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তারা ভবনটির বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের কথা বলেছেন। নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে আপাতত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) একেএম শাকিল নেওয়াজ গতকাল বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনের বেসমেন্টে বিপজ্জনক ও অরক্ষিত অবস্থায় অসংখ্য বস্তা ও ড্রামভর্তি পদার্থের মজুদ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এগুলো দাহ্য ও বিপজ্জনক রাসায়নিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কোত্থেকে সেদিন আগুনের সূত্রপাত ঘটে, তা এখনো বলার সময় হয়নি। খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, বেসমেন্টে পাওয়া রাসায়নিকের মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি, খোঁজ করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিসের এ কর্মকর্তা জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয়তলায় পারফিউমের মজুদটি যার, বেসমেন্টের পণ্যও তারই মজুদ করা।  বেসমেন্ট কীভাবে আগুন থেকে রক্ষা পেল?Ñ এমন প্রশ্নে শাকিল নেওয়াজ বলেন, আন্ডারগ্রাউন্ডের প্রবেশপথটি ভবনের পেছন দিকে। সেটি বন্ধ ছিল। তাই অক্সিজেন ভেতরে যেতে না পারায় আগুনও ছড়ায়নি। চারতলা ওয়াহেদ ম্যানশন এখন সিলগালা করে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। চলমান তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বেশি কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে অগ্নিকা-ে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ধসে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে গতকাল সকালে পরিদর্শনের পর তথ্য প্রকাশ করেছে বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দল। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য লে. কর্নেল জুলফিকার রহমান গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ভবনের মধ্যে তিনটি প্রাথমিকভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মনে হয়েছে। ভবনগুলোয় অগ্নিকা- মোকাবিলায় প্রয়োজন হয় এমন ন্যূনতম ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। ভবনগুলো যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

লে. কর্নেল জুলফিকার আরও বলেন, আবাসিক এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউনের অনুমতি নেই। সরকারের নির্দেশনার পর নতুন করে লাইসেন্সও দেওয়া হয়নি। যে কোনো মূল্যে সম্মিলিত উদ্যোগ ও চেষ্টায় এসব এলাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নেওয়া হবে বলে দৃঢ়তার সঙ্গে জানান তিনি।
একই তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য বুয়েটের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, আমরা ভবনগুলো পরিদর্শন করেছি। দেখেছি, ওয়াহেদ ম্যানশনের গ্রাউন্ড ফ্লোর ও দ্বিতীয়তলা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঠিক কতটা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাবে।

ভবনগুলো বিল্ডিং কোড মেনে নির্মাণ করা হয়নি, উল্লেখ করে মেহেদী আহমেদ বলেন, ওয়াহেদ ম্যানশনের দ্বিতীয়তলার পুরোটাতেই গোডাউন ছিল। এটি বেশ বড় ভবন হওয়া সত্ত্বেও আগুন মোকাবিলার কোনো ইকুইপমেন্ট নেই, পর্যাপ্ত সিঁড়ি নেই! আগুনের সূত্রপাত হয়তো সিলিন্ডার বিস্ফোরণে, কিন্তু কেমিক্যালের কারণেই দ্রুত ছড়িয়েছে আগুন। তদন্ত চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো ব্যবহারের উপযোগী কিনা তা হয়তো এক সপ্তাহ পর জানানো যাবে। আমরা অধিকতর তদন্ত করে ভবনগুলোর সার্বিক অবস্থা জানাতে পারব।
এদিকে চকবাজারে আগুনে পুড়ে নিহতদের স্মরণে জুমার নামাজের পর দেশজুড়ে বিশেষ প্রার্থনার কথা জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। গতকাল দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে অগ্নিকা-ে আহতদের দেখতে গিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবকিছুর সঙ্গে ধর্মীয় চিন্তা-চেতনা যুক্ত। আমরা যারা ধর্মে বিশ্বাস করি, আমরা জানি যেÑ এই মৃতদের আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই পরকালে তাদের শান্তির জন্য দোয়া প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অগ্নিকা-ের ঘটনা সব ধর্মের লোকজনকেই নাড়া দিয়েছে। মৃতদের জন্য আমরা সমবেদনা প্রকাশ করছি এবং আশ্বাস দিচ্ছি, সরকারের পক্ষ থেকে সব সহযোগিতা হবে।

পুরান ঢাকার চকবাজারে চুড়িহাট্টায় ওয়াহেদ ভবনের অগ্নিকা-ের পেছনে কেমিক্যাল রাখা, মজুদ ও বিপণন করতে সরকারি সংস্থাগুলোর কোনো প্রকার অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির প্রধান (অগ্নি অনুবিভাগ) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ভবনটির অগ্নিকা-ের ঘটনার পেছনে সরকারি সংস্থার কার কী দায়িত্ব ছিল, কে কী অবহেলা করেছেÑ সে বিষয়টি খতিয়ে দেখব আমরা। এর পাশাপাশি অগ্নিকা-ের কারণ খুঁজে বের করা হবে।

এদিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকা-ে হতাহতদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভাড়াটিয়া পরিষদ নামে একটি সংগঠন। সেই সঙ্গে আবাসিক এলাকা থেকে অবিলম্বে কেমিক্যাল গোডাউন সরানোর দাবি জানানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত