আর বাড়ি-বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দেবেন না রাসু
নিউজ ডেস্ক।। পাবনার বেড়া উপজেলার প্রত্যন্ত সোনাপদ্মা গ্রাম। এ গ্রামেরই সন্তান ইমরোজ ইমতিয়াজ রাসু। এলাকার মানুষের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন তিনি, সবাই স্বপ্নও দেখতেন তাকে নিয়ে। ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি এলেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষকে চিকিৎসা দিতেন রাসু। এরই মধ্যে বহু মানুষ তার সেবা পেয়েছেন। তবে তার এই মানবসেবা অঙ্কুরেই থেমে গেল। গত বুধবার রাতে ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে অন্যদের সঙ্গে মারা গেছেন মানবদরদি এই মানুষটিও।
সোনাপদ্মা গ্রামটি উপজেলার নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত। রাসু নতুন ভারেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও একই স্কুলের শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসীর সন্তান। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুরান ঢাকার আল মদিনা ডেন্টাল হাসপাতালে সিনিয়র চিকিৎসককে সহায়তা করতেন এবং মাঝেমধ্যে রোগী দেখতেন। রাসুকে নিয়ে তার পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের মানুষও স্বপ্ন দেখতেন। তারও ইচ্ছা ছিল ইন্টার্ন শেষ করে গ্রামেই ফিরবেন। ফিরলেন ঠিকই, পুড়ে অঙ্গার হয়ে!
রাসুর মা বিলাপ করতে করতে বলেন, ছেলে গ্রামের মানুষকে খুব ভালোবাসত। ওর ইচ্ছা ছিল গ্রামের মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার। কিন্তু সব স্বপ্ন শেষ। রাসুর সহপাঠী আল আমিন বলেন, রাসু খুব ভালো ছেলে ছিল। আমরা ওর মৃত্যুতে খুবই মর্মাহত। রাসুর মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ছেলেকে হারিয়ে বাবা-মা বিলাপ করে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে রাসু তৃতীয় ছিলেন।
শুক্রবার সকালে রাসুর লাশ এলাকায় এসে পৌঁছলে গ্রামের শতশত মানুষ এক নজর দেখার জন্য ভিড় করেন। স্বজনের আহাজারিতে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। নতুন ভারেঙ্গা স্কুলমাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়। এ সময় বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আমান সিদ্দিকিসহ রাসুর সহপাঠী, স্কুলের শিক্ষার্থী, গ্রামবাসীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উৎস: সমকাল।




