266800

পানির ট্যাংকে ঢুকে প্রাণ বাঁচলো বাবার, মারা গেল ছেলে!

নিউজ ডেস্ক।।  পানির ট্যাংকের মধ্যে ঢুকে শেষ রক্ষা হলো আলমগীর মিয়ার। সচারচার রাত ৮ টার দিকেই দোকান বন্ধ করেন আলমগীর মিয়া। কিন্তু ২১ তারিখ বুধবার ছেলেকে বাড়ি পাঠিয়ে নিজেই দোকানে বসে পান, বিড়ি, বিক্রি করছেন। রাত গড়িয়ে ১০.৩০ মিনিট তখন। হঠাৎ করে বিকট শব্দ আর কিছুক্ষণের মধ্যে আগুনের ঝলকানি। যেনো পুরো এলাকাতেই অাগুন লেগে গেছে। আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা কি করবো। দোকান খোলা রেখেই পালাতে লাগলাম কিন্তু কোনো দিকে যাবার পথ নাই চারেদিকে আগুন আর আগুন। শরীরে ভিষন আগুনের তাপ লাগছে। মনে হচ্ছে পুড়ে যাচ্ছি। এমন অবস্হা দেখে, বেখেয়ালে ঢুকে পড়ি পানির ট্যাংকের মধ্যে।

এভাবেই বলছিলেন সেখান পান দোকানি আলমগীর মিয়া। তিনি আরো বলেন, পুরো দুঘন্টা আমি ট্যাংকের ভিতর। শুধু অাল্লাহাকে ডাকছি, আর দোয়া, দুরুদ পড়ছি। আমি ভেবেছি হয় তো কেয়ামত শুরু হয়ে গেছে। একবার ট্যাংকের মুখ খুলে উকি মেরে দেখি চারেদিকে শুধু অাগুন অাগুন। আর পোড়া জিনিষ পত্র।

পরে যখন আবার উকি মারি তখন দেখি ফায়ার সার্ভিস এর লোকজন আগুনে পানি দিচ্ছে। ডাক দিলাম শুনতে পায়নি। খানিক পর একজন এসে ঢাকনা খুলে হাত ঢুকিয়ে আমাকে ধরছে। তখন বুঝলাম হয়তো কেউ বাচাতে এসেছে। মাথা তুলে দেখি তখনো অনেক আগুন। আমাকে ধরে নিয়ে নিরাপদ যায়গায় নিচ্ছে।

অনেক পানিও খেয়েছি। ভেবেছিলাম হয়তো আজ মেরেই যাবো তাই শুধু লাইলাহা ইল্লালহু মুহাম্মদুর রাসুলুল্লা পড়ছিলাম। আমি খুব ক্লান্ত হয়ে আমার ছেলের খোজ করছিলাম কিন্তু কেউ আমার ছেলের খোজ দিতে পারেনি। আপনারা আমার ছেলে ফিরিয়ে দিন। ঠিক এমন করেই বিলাপ করছিলেন আর বলছিলেন ষাটার্ধো বয়সী এই অালমগীর মিয়া। তিনি কোনো ভাবে বেছে ফিরলেও খুজে পাচ্ছেন না তার ছেলেকে। সবাই ভাবছে হয় তো ওদের মত আলমগীর মিয়ার ছেলেও আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

সাধারন জনগন মনে করছেন যে, মুলত দেশে আগুন নির্বাপণ এর ব্যবস্হা খুবই নগন্য, দুর্বল। দেশে কখনো কোনো সরকার আগুন নির্বাপণ এর দিকে যথাযথ নজর দেয় নি। আগুন নির্বাপণের জন্য দরকার যথাযথ পদক্ষেপ। আর কেমিকেল দোকানের জন্য নিরাপদ স্হান দরকার। মানুষের বসবাসের মধ্যে কেমিকেল এর এমন দোকান ও স্টোর নিঃসন্দেহে সর্বনাশের কারন। সরকারের উচিত হবে যে, কেমিকেলের ব্যবসার ও তাদের লাইসেন্স মনিটর করে দেখে শুনে দিতে হবে। এখানে কোনো ছাড় দেয়া চলবেনা। তবেই ভবিষ্যতে আর এমর দুর্ঘটনা হয়তো ঘটবে না।

ad

পাঠকের মতামত