চকবাজারের আগুনে স্বামীর কিছু হয়েছে বুঝেছিলেন স্ত্রী, অতঃপর…
ঢাকা চকবাজারে বুধবার রাতে ভয়াবহ আগুন লাগার খবরে ওই সেখানে কর্মরত স্বামীকে বারবার মোবাইল ফোনে কল করছিলেন শিরিনা বেগম। কিন্তু ফোন রিসিভ করেননি কেউ।পরদিন বৃহস্পতিবার বিকালে ঢামেক থেকে ফোন করে জানানো হয় তার স্বামী শাহাদাত হোসেন মারা গেছেন।কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের দর্পনারায়নপুর (সরকার বাড়ির) মোসলেম উদ্দিন সরকারের ছেলে শাহাদাত হোসেন সরকার (৩৫) ছোট বেলা থেকে চকবাজারের বিভিন্ন বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
সর্বশেষ তিনি একটি বেকারির সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।দুই সন্তানের জনক শাহাদাত স্ত্রীসহ ইসলামপুরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই এলাকার একটি বেকারিতে কাজ শেষে তিনি তার বাসায় ফেরার পথে অগ্নিদগ্ধ হন।নিহত শাহাদাতের স্ত্রী শিরিনা বেগম যুগান্তরকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর তার স্বামীর মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তিনি বুঝতে পেরেছেন তার স্বামীর কোনো বিপদ হয়েছে।বারবার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করার পর সবশেষে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় ফোনটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে রিসিভ করে বলা হয় শাহাদাতের লাশ হাসপাতালে আছে।
তখন তার মামা মিজানুর রহমান ঢাকা মেডিকেলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার রাতে শাহাদাতের গ্রামের বাড়িতে লাশ নিয়ে আসেন।বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় তার গ্রামের বাড়ির আঙিনায় জানাজা শেষে তাকে তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো.আবুল ফজল মীরের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফৌজিয়া ছিদ্দিকা নিহতের গ্রামের বাড়ি গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে নগদ ২০ হাজার টাকার অনুদান দেন।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসক ওই পরিবারটিকে ভবিষ্যতে আরও সাহায্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন।এ সময় চান্দলা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তবা আলী শাহিনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।উল্লেখ্য, রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের একটি ভবনে বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে আগুন লাগে।এ ঘটনায় অন্তত ৬৭ জন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।




