না বুঝলেও বাবাকেই খুঁজছে সেই যমজ শিশু
ঘিঞ্জি পুরান ঢাকার আরেকটি ভয়াবহ ট্রাজেডির সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী। আগুনের লেলিহান শিখা কেড়ে নিয়েছে অন্তত ৮১টি তাজা প্রাণ। দগ্ধ হয়েছেন আরো অর্ধশত মানুষ। খাবারের হোটেল, বাসাবাড়ির মানুষের পাশাপাশি পুড়ে মরেছে রাস্তার মানুষও। এই ট্রাজেডি কাঁদিয়েছে গোটা দেশের মানুষকে।পুরান ঢাকার চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বাবা হারিয়েছে যমজ শিশু। তাদের বয়স মাত্র এক বছর। তারা এইচ এম কাওসার আহমেদ ছেলে।
এইচএম কাওসার আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফাইনাল বর্ষের ছাত্র। পরিবার আগেই বিয়ে দিয়েছেন। কাওসার-মুক্তি দম্পতির কোলজুড়ে এসেছে ফুটফুটে যমজ।পরিবারকে বাড়তি একটু সহায়তার জন্যই কাওসার অংশীদার মালিকানায় চকবাজারের চুরিহাট্টায় ব্যবসা শুরু করেন। ফার্মেসির ব্যবসা, মদিনা মেডিকেল হল নামে।প্রতিদিনের মতো বুধবারও ফার্মেসিতে যান কাওসার। এই যাওয়া যে তার শেষযাত্রা, ঘুণাক্ষরেও টের পাননি পরিবার। রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড জীবন্ত দগ্ধ হয়েছেন কাওসার।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চকবাজারে ঘুরেছেন পাননি। পরে লাশের সন্ধানে ঢামেক মর্গে এসেছেন মা, বড় ভাই ইলিয়াস ও স্ত্রী মুক্তা।মুক্তার কোলে কাওসারের যমজ শিশু। তারা ফ্যালফ্যাল করে চারদিকে চাইছে। হয়তো বাবাকেই খুঁজছে তারা।স্বজনরা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাওসার। চকবাজার শাহী জামে মসজিদ এলাকার আল-মদিনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়।কাওসারের ভাই হাফিজ আহমেদ বলেন, দোকানটির আয় দিয়ে নিজের পড়ালেখার খরচ চালাতেন তিনি। পরিবারের ভরণপোষণের ভারও নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন।
সন্তানের মৃত্যুতে বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন কাউছারের মা। কাঁদতে কাঁদতে বুক চাপড়ে বলছেন, ‘আমার কাউছার কই। আমার বুকের ধনকে আমার বুকে এনে দে।’প্রসঙ্গত, এর আগে বুধবার রাত ১০টার পর রাজধানীর চকবাজার এলাকার নন্দকুমার দত্ত সড়কের চুরিহাট্টা মসজিদ গলির রাজ্জাক ভবনে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে আগুন ভয়াবহ আকারে আশপাশের আরও ৫টি বিল্ডিংয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের ৩২টি ইউনিট রাত ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।




