266425

দুজনের মরদেহ দাফন, আরেকজন শনাক্ত হননি

গত বুধবার রাতে রাজধানীর চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের তিনজনের বাড়ি চাঁদপুরে। এদের মধ্যে জেলার হাজীগঞ্জের মোহাম্মদপুর গ্রামের বৃদ্ধ ইসমাইল হোসেন ও পাশের আহম্মদপুর গ্রামের যুবক সিদ্দিকুর রহমান। অন্যজন জেলার ফরিদগঞ্জের রূদ্রগাঁও গ্রামের বৃদ্ধ শামছুল হক। এদের মধ্যে দুর্ঘটনার তিন দিন পরও ইসমাইল হোসেনের মরদেহ শনাক্ত করা যায়নি।শুক্রবার সকালে সিদ্দিকুর রহমান এবং শামছুল হকের মরদেহ গ্রামের বড়িতে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ দেখে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তাদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। পরে পৃথকভাবে গ্রামের বাড়িতে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই তিনজনই ছিলেন চকবাজারের ব্যবসায়ী। এদের মধ্যে শামছুল হক (৭০) ডেকোরেটর ব্যবসায়ী এবং ইসমাইল হোসেনের (৭২) পলিথিন তৈরির কারখানা ছিল। আর সিদ্দিকুর রহমান (২৮) মোবাইলফোন ও কম্পিউটারের খুদে দোকানি ছিলেন।ফরিদগঞ্জ পৌরসভার রূদ্রগাঁও গ্রামের শামছুল হক এলাকায় বেশ দানশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তিনিসহ আরো পাঁচজনই ডেকোরেটরের শোরুমে অবস্থান করেন। সেখানেই প্রাণ হারান তারা। শামছুল হকের ঘনিষ্ট বন্ধু আরেক ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম এমন তথ্য জানান।

নিহতের ছেলে মাহবুবুর রহমান জানান, তার বাবা একটু দেরিতেই বাসায় ফিরতেন। যে কারণে, রাতে দুর্ঘটনার সময় তিনি দোকানেই ছিলেন। নিহতের ছোটভাই অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, তার ভাই বড়মাপের ব্যবসায়ী তা হলেও বেশ সামাজিক ছিলেন। এক ছেলে, দুই মেয়ের বাবা শামছুল হক সাধারণ মানুষের বিপদ আপদে পাশে থাকার চেষ্টা করতেন।অন্যদিকে, জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেও শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত তার মরদেহ শনাক্ত করতে পারেননি স্বজনরা। ছোটভাই মো. ইউনুস উল্লাহ জানান, এক ছেলে, দুই মেয়ের বাবা ইসমাইল হোসেন, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি রাজধানীতে থাকতেন। এলাকার অনেকেই তাঁর হাত ধরে রাজধানীর চকবাজারে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার বাইরে তিনি বেশ সামাজিক হওয়ায় অনেকেই তাঁর কাছে সাহায্য-সহযোগিতার জন্য ছুটে যেতেন।পাশের গ্রাম মোহাম্মদপুরের সিদ্দিকুর রহমান একই ঘটনায় নিহত হন। গত কয়েক বছর আগে তিনি বিদেশ থেকে দেশে ফিরে মোবাইলফোন ও কম্পিউটারের ব্যবসা শুরু করেন। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন সিদ্দিকুর রহমান। ছেলের এমন মৃত্যু কোনো কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না বাবা আবুল হোসেন। তাঁর আক্ষেপ, ছেলের সঙ্গে গোটা সংসারও শেষ হয়ে গেল।

ad

পাঠকের মতামত