266358

‘কাউছারকে না দেখে আমি যাব না’

নিউজ ডেস্ক।। সংসার চালাতে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্টনারশিপে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ফার্মেসি চালাতেন কাউছার। সেখানে ডেন্টাল ইউনিটও ছিল। স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা, ভাইদের নিয়ে পাশেই থাকতেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র চতুর্থ বর্ষের মেধাবী এই শিক্ষার্থী। স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে ভালো চাকরি করবেন। স্ত্রী-সন্ত্রান, বাবা-মা, ভাই-বোনদের জীবনে সুখ আনবেন। কিন্তু বুধবার রাতের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এই যুবকের সবকিছু এক নিমিষেই চুরমার হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই কাওসার, এক ডাক্তারসহ ৬ জন দগ্ধ হয়ে মারা যান। শেষবার স্বামীর মরদেহ দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে যমজ দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন কাউছারের স্ত্রী মুক্তা।

ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকতে না পেরে মর্গের সামনে বসেই বিলাপ করছিলেন। আর বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। হে আল্লাহ, এমন শাস্তি আমাকে কেন দিলে? কাওসারকে না দেখে আমি যাব না।’ পাশেই বসে ছিলেন কাউছারের মা। তিনি ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন। শুধু একটা কথাই তার মুখে শোনা গেছে- ‘কী অপরাধ ছিল আমার ছেলের। আল্লাহ কেন এ শাস্তি দিলা।’ সান্ত্বনা দিতে আসা এক স্বজন বলেন, কাউছার খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। মাদ্রাসায় পড়ালেখা করেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ১৭তম হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, অনেক কষ্টে ভিড় ঠেলে মর্গের ভেতরে ঢুকতে পেরেছি। কাউছারকে শনাক্ত করতে পেরেছি।

কিন্তু ওর স্ত্রীকে দেখানোর মতো অবস্থা নেই। কাউছারের ভাই ডা. ইলিয়াস বলেন, ওই ক্লিনিকে কাউছারের সঙ্গে ছিলেন তিন দন্ত্যচিকিৎসক ও এক রোগী। এর মধ্যে ইমতিয়াজ ও আশরাফুল নামের দুই চিকিৎসক অন্য চিকিৎসকের অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। কাউছারের যমজ দুই বাচ্চা আবদুল্লাহ ও নুসাইবাকে কোলে নিয়ে আত্মীয়স্বজন অঝোরে কাঁদছিলেন। তা দেখে বাচ্চা দুটিও কাঁদছিল। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে মর্গ চত্বরের বাতাস।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সাড়ে ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মসজিদে হাফেজ কাওসারের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার শ্রীপুর গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। পরে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।

 

ad

পাঠকের মতামত