দিপুর ভাই-ভাতিজার মৃত্যু হয় ‘চোখের সামনেই’
নিউজ ডেস্ক।। মোহাম্মদ আলী (৩২), অপু রায়হান (৩১) ও মোহাম্মদ দিপু। চকবাজারে একসঙ্গে প্লাস্টিক ও কাপড়ের দোকান ছিল এই তিন ভাইয়ের। চকবাজারে গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে যখন আগুনের সূত্রপাত তখন দোকানেই ছিলেন তারা। সঙ্গে ছিল মোহাম্মদ আলীর তিন বছরের ছেলে আরাফাতও। তাদের মধ্যে ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন দিপু।বাকি তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
মোহম্মদ দিপু বলছিলেন, ঘটনার সময় তারা চারজন একসঙ্গে ছিলেন। যখন আগুন লাগে তখন তারা দোকান থেকে বের হচ্ছিলেন। দিপুর ১০-১৫ গজ পেছেন ছিলেন তার দুই ভাই ও ভাতিজা। প্রথমে যখন অল্প আগুন লাগে তখন তারা দেখার জন্য দাঁড়িয়েছিল। এ সময় দিপু একটু সামনে যায়। ঠিক তখনই কেমিক্যালের বিস্ফোরণে পেছনের তিনজন ঘটনাস্থলে মারা যায়।
একসঙ্গে তিন স্বজনকে হারিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে কাঁদছেন দিপু ও তার বোন জরিনা বেগম। পাশে অন্য স্বজনরা তাদের সান্ত্বনা দিয়েও তাদের থামাতে পারছিলেন না। নিহত অপুর চার মাসের জোনাইরা নামে এক কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহত অপর ভাই মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। তারা রহমতগঞ্জ থাকতেন।
ঘুরতে গিয়ে ২ বন্ধুর মৃত্যু : চকবাজারের আগুনে রোহান খান (২১) নামের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ’র এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় তার বন্ধু মেহেদীকে নিয়ে বাইকে করে সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন রোহান। এ সময় কেমিক্যাল বিস্ফোরণে তারা দুজনই ঘটনাস্থলে মারা যান। তাদের সামনের বাইকে ছিলেন লাবিব ও আরাফাত। মর্গে রোহানের মরদেহ শনাক্ত করতে এসে এসব জানান তার চাচাতো ভাই মামুন।
গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের চুড়িহাট্টা শাহী মসজিদের পেছনের ভবনগুলোতে লাগা ভয়াবহ আগুনে দগ্ধ অন্তত ৭০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য এরই মধ্যে ১ লাখ এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শ্রম ও কর্ম সংস্থান মন্ত্রণালয়। আজ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।




