‘গেট খোলা থাকলে হয়তো ভাইকে ফিরে পেতাম’
ডেস্ক রিপোর্ট।। রাজধানীর চকবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ঢাবি শিক্ষার্থী হাফেজ মো. কাওসার আহমেদকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার পরিবার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছেন তার স্বজনরা। বাকরুদ্ধ অবস্থায় কাওসারের ভাই ইলিয়াস বলেন, আগুনের সময় ক্লিনিকের ভবনের গেট বন্ধ ছিল। খোলা থাকলে হয়তো ভাইকে ফিরে পেতাম। পেশায় দাঁতের চিকিৎসক ইলিয়াস বলেন, ‘আমি, ইয়ামীন, ফয়সাল, কাওসার, আমরা চার ভাই। কাওসার মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।’
ইলিয়াস বলেন, আগুনের সময় ক্লিনিকের ভবনের গেট বন্ধ ছিল। খোলা থাকলে হয়তো ভাইকে ফিরে পেতাম। ওই ক্লিনিকে কাওসারের সঙ্গে ছিলেন তিন দাতের চিকিৎসক ও এক রোগী। এছাড়া কাওসারের বিষয়ে তার ঢাবির বন্ধু সূর্যসেন হলের ছাত্র শরীফুল আলম বলেন, আমাদের মধ্যে কাওসার ছিল খুবই মেধাবী ও পরিশ্রমী। নিজের খরচ নিজেই বহন করত। সে জন্য ফার্মেসির দোকান দিয়েছিল। কাওসার মাদ্রাসায় পড়ত, কোরআনে হাফেজ ছিল। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।
তিনি বলেন, সে মাঝেমধ্যে সূর্যসেন হলেও এসে থাকত। আবার বাসায়ও থাকত। ওষুধের দোকানটাও সেই চালাত। কাওসার বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক। আবদুল্লাহ নামে একটি ছেলে এবং নুসাইবা নামে একটি মেয়ে আছে তার। শরীফুল আলম আরও বলেন, কাওসারের ইচ্ছা ছিল বড় ব্যাংকার হবে, পরিবারের হাল ধরবে। ওর স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেল। ওর মতো মেধাবীদের এমন করে পুড়ে মারা যাওয়া রাষ্ট্রের চরমতম ব্যর্থতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন কাওসার। পার্টনারশিপে ক্লিনিকের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বাবার নাম খলিলুর রহমান। কুমিল্লায় বাড়ি। সবাই থাকতেন চকবাজারে। স্ত্রী আর ফুটফুটে যমজ সন্তান নিয়ে সংসার কাওসারের। রয়েছেন মা, বাবা, ভাইসহ আত্মীয়স্বজন। সবাইকে রেখে কি তিনি চলেই গেলেন না–ফেরার দেশে? জীবিত পাওয়ার আশা ছেড়ে তার লাশের খোঁজে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে ছুটে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা। যুগান্তর।




