হোটেলের টেবিলে পড়ে আছে অর্ধেক খাওয়া পরোটা ভাত
চকবাজারের ব্যস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম চুড়িহাট্টা সড়ক মোড়। এখানে গভীর রাত পর্যন্ত চলত তরুণসহ বিভিন্ন বয়সীদের আড্ডা। সেখানে ছিল কয়েকটি খাবার হোটেল ও চায়ের দোকান। এসব খাবার হোটেলের একটি রাজমহল। মধ্যম আকারের এ হোটেলটিও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।বৃহস্পতিবারও হোটেলের টেবিলগুলোয় পড়ে ছিল ক্রেতাদের অর্ধেক খাওয়া ভাত, মাংস, রুটি ও পরোটা। তবে ট্র্যাজিডির পর বৃহস্পতিবার এ হোটেলটি খোলা থাকলেও ছিল না ক্রেতা বা বিক্রেতা।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার রাজমহল হোটেলে গিয়ে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই হোটেলটি খোলা। শুধু নেই ক্রেতা, মালিক ও কর্মচারীরা। হোটেলে ঢুকতেই দেখা মিলল রুটি ও পরোটা বানাতে তৈরি আটা-ময়দার কয়েকটি খামির। ওই খামিরের পাশে পড়ে আছে একটি দগ্ধ মোবাইল ফোন।পাশেই রয়েছে পরোটা বানানোর জন্য একটি বাটিতে রেখে দেয়া তেল। আগুন নেভানোর পানি ওই তেলের সঙ্গে মিশে মাটিতে পড়ে আছে। পাশে রয়েছে তিন খাঁচি ডিম। রয়েছে তিনটি গ্যাস সিলিন্ডার।
এসব সিলিন্ডার অবিস্ফোরিত। দেখে যেন মনে হচ্ছে, কিছুক্ষণ আগেও রুটি ও পরোটা তৈরি হয়েছে। এর পাশেই ক্যাশ কাউন্টারে চায়ের টোকেন, বিলের কাগজ, পলিথিন ব্যাগসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পড়ে আছে। আছে ক্যাশিয়ারের চেয়ারও। তবে ছিল না ক্যাশিয়ার।হোটেলে ঢুকতেই আরও দেখা গেল, সারিবদ্ধ আছে টেবিল ও বেশির ভাগ চেয়ার। তবে কিছু চেয়ার উল্টেপাল্টে পড়ে আছে। দোকানের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ক্রেতাদের জুতা। ঢোকার পর ডান পাশের টেবিলে ছিল একটি সম্পূর্ণ পরোটা এবং আরেকটি পরোটার অর্ধেক।
বোঝাই যাচ্ছে, কোনো ক্রেতা ওই অর্ধেক পরোটা খাওয়ার সময় আগুনের সূত্রপাত হলে জুতা ও খাবার ফেলেই সরে পড়েন তিনি। আরেক টেবিলে ছিল প্লেটে সবজিমাখা ভাত। আরেক টেবিলে ছিল দুটি পিরিচে মুরগির গ্রিলের অংশ। আরেক টেবিলে পড়ে ছিল বাটিভরা সবজি।উর্দু রোডের বাসিন্দা আমিন উদ্দিন জানান, এ হোটেলটিতে গভীর রাত পর্যন্ত বেচাকেনা চলত। তরুণদের আড্ডার জায়গাও ছিল এ হোটেলটি। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের কর্মচারী ও ক্রেতারা যে যেভাবে পেরেছেন বেরিয়ে গেছেন। তবে কেউ মারা গেছেন কি না, তা বলতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ওই হোটেলের মালিক ও কর্মচারীদের দেখা মেলেনি।




