264722

কবর থেকে ছয় মাস পর গৃহবধূর লাশ উত্তোলন

নিউজ ডেস্ক।। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে দাফনের ৬ মাস পর ময়নাতদন্তের জন্য জ্যোতি হীরা ওরফে সোহাগী নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলার কলিগ্রামের নিজ বাড়ীর কবর থেকে ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়। নিহত গৃহবধূ জ্যোতি হীরা ওরফে সোহাগী জ্যাকব হীরার মেয়ে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই গ্রামের আদ্বিত্য রায়ের ছেলে অচিন্ত রায় একই গ্রামের জ্যাকব হীরার মেয়ে জ্যোতি হীরা ওরফে সোহাগীকে বিয়ে করে রাজধানীর মিরপুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। কয়েকদিন পর ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে জ্যোতি হীরাকে মারধরসহ শারীরিক নির্যাতন করা হয়। পরে জ্যোতি বাবার বাড়ি চলে আসলে টাকা দিতে না পারায় ওখানেই আবারো জোত্যির উপর নির্যাতন চালায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ীর লোকজন। মারাত্মক আহতাবস্থায় জ্যোতিকে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন ঢাকায় নিয়ে আসে।

তার অবস্থার আরো অবনতি ঘটলে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিসাধীন অবস্থায় বিগত ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জ্যোতি মারা যান। পরে জোত্যির মৃতদেহ বাড়িতে নিয়ে আসলে বিচার পাবার আশ্বাসে তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু বিচার নিয়ে তালবাহানা শুরু করলে গত বছর ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর মুকসুদপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে।

পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অচিন্ত রায়, আদ্বিত্য রায়, যোগেশ রায় ও অন্তরা রায়কে আসামি করে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে জ্যোতির পিতা জ্যাকব হীরা। আদালত বাদির মামলা আমলে নিয়ে মুকসুদপুর থানায় এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিলে থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়।

মুকসুদপুর থানার এসআই (সাব-ইন্সেপেক্টর) নব কুমার ঘোষ বলেন, মামলাটির তদন্তভার আমার উপর পড়লে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করার প্রয়োজন পড়ে। এসময় আমি জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে লাশ উত্তোলন করার জন্য আবেদন করলে তিনি মঞ্জুর করেন। পরে আজ (রোববার) দুপুরে জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অমিত রায়ের উপস্থিতিতে কবর থেকে ওই গৃহবধূর মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়। ময়না তদন্তের জন্য বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ad

পাঠকের মতামত