নিজে ড্রাইভ করে আল্লামা শফীকে ইজতেমা ময়দানে পৌঁছে দিলেন গাজীপুরের মেয়র
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে অংশ নিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির ও বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা আহমদ শাহ শফী। তিনি শুক্রবার ইজতেমা ময়দানে উপস্থিত হয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন।গাজীপুরে আল্লামা শফীকে স্বাগত জানান সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তিনি নিজের গাড়িতে বসিয়ে নিজেই গাড়ি চালিয়ে ইজতেমা ময়দানে নির্দিষ্ট কামড়া পর্যন্ত আল্লামা শফীকে পৌছে দেন। জাহাঙ্গীর আলম এসময় আল্লামা শফীর কাছে দোয়া চান।আল্লামা শফী পরে ইজতেমা ময়দানে বৃহত্তর জুমার নামাজে অংশ নেন। তিনি রাতে সেখানে অবস্থান করেন।
এ বিষয়ে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম জানান, হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী শুক্রবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছাখালী থেকে বেসরকারি হেলিকপ্টারযোগে টঙ্গীর বাটা সু কারখানা এলাকার হেলিপ্যাডে নামেন। পরে সেখান থেকে তিনি (মেয়র) নিজ গাড়িতে করে তাঁকে ইজতেমা ময়দানে নির্দিষ্ট কামড়ায় পৌঁছে দেন।আল্লামা শফী আখেরি মোনাজাত শেষে আজই হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে চলে যাবেন।তাবলীগ জামাতের ৫৪ তম এ সম্মেলনে টঙ্গীর তুরাগ তীরে কয়েক লাখ মুসল্লির সমাগম হয়েছে।
মাওলানা জোবায়ের ও মাওলানা সাদ অনুসারীদের দুদিন করে পৃথক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এবারের বিশ্ব ইজতেমায় দুটি আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে মাওলানা জোবায়েরপন্থীদের ব্যবস্থাপনায় আখেরি মোনাজাত সম্পূর্ন হয়েছে ।প্রথম ধাপে রয়েছেন জোবায়েরপন্থী আলেম-ওলেমা কওমিপন্থী তাবলিগ জামাতের অনুসারী মুসুল্লিরা। দ্বিতীয় ধাপের নেতৃত্বে থাকছেন বিশ্ব তাবলিগ জামাতের আমির ভারতের মাওলানা সাদ সমর্থক ওয়াসেকুল ইসলামের অনুসারীরা।
বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার আনুষ্ঠানিকতা। আজ প্রথম পক্ষের আখেরি মোনাজাত শেষে সোমবার আখেরি মোনাজাত হবে দ্বিতীয় পক্ষের। আর এর মাধ্যমে শেষ হবে ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমা।দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় মুরব্বিরা বিশ্ব ইজতেমায় ইমান-আমল, ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য-সংহতি ও জীবনের অন্যান্য বিষয়ের ওপর বয়ান করবেন। শুক্রবার ফজর নামাজের পর পাকিস্তানের মাওলানা জিয়াউল হক আমবয়ান পেশ করেন। ময়দানে বয়ান, জিকির, তালিম আর মাশোয়ারায় মগ্ন থাকেন মুসল্লিরা।
মূলত বুধবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ইজতেমা ময়দানে জড়ো হন মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার ভোরে একদফা আমবয়ান হয়। মাগরিবের নামাজের পর হয় আরেক দফা আমবয়ান।বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও বিআরটিসি মুসল্লিদের আনা-নেয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ইজতেমা মাঠের সংস্কারকাজ এবং সেবামূলক কার্যক্রম নিশ্চিত করেছে। বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কার্যক্রম মনিটরিংয়ের জন্য ইজতেমা মাঠে পাঁচটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, র্যাব, আনসার ও ভিডিপির কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের ১৫টি ওয়াচ টাওয়ার, র্যাবের ১০টি ওয়াচ টাওয়ার, মুসল্লিদের জন্য ৩৫০টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ, অজু, গোসল, পয়ঃনিষ্কাশন ও সুপেয়পানি সরবরাহের লক্ষ্যে ১৩টি গভীর নলকূপ থেকে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।প্রতিদিন তিন কোটি ৫৪ লাখ গ্যালন সুপেয়পানি সরবরাহের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে আকাশ ও নৌপথে পুলিশ, র্যাবের নিয়মিত টহল। নিরাপত্তা চাঁদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে টঙ্গী শিল্পনগরী পুরো শহরটিকে।




