262964

মাদ্রাসায় ডেকে নিয়ে ‘অন্তরঙ্গ ছবি ডিলিট করেন ‍হুজুর’

নিউজ ডেস্ক।। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাসিন্দা হাফেজ মাহবূবুর রহমান। উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের কলেজ সড়কে অবস্থিত দারুল হাবীব ইসলামী একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তিনি।  মাহবূবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তার এক ছাত্রীর মায়ের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে প্রায় এক বছর আগে তাকে বিয়ে করে সংসার করছেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি ওই নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছেন।

ভুক্তভোগী নারী জানান, ওই গৃহবধূর প্রথম স্বামীর বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলব থানায়। প্রায় দুবছর আগে স্বামীর ভরণ-পোষণ না পেয়ে গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর এলাকায় এসে দুই শিশু কন্যা নিয়ে বসবাস শুরু করেন তিনি। একপর্যায়ে স্থানীয় এক রাজমিস্ত্রীর দলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। প্রায় দুই বছর আগে ওই নারী তার দুই মেয়ে শিশুকে স্থানীয় দারুল হাবীব ইসলামী একাডেমিতে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি করেন। দুই মেয়ের খোঁজ নিতে ওই নারী প্রায় মা্দ্রাসায় যেতেন। যাওয়া-আসার সময় প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হাফেজ মাহবূবুর রহমান ফুসলিয়ে তার সঙ্গে প্রথমে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে আগের স্বামী সেলিম মিয়াকে তালাক দিয়ে ঢাকার ইসলামপুর এলাকায় নিয়ে বিয়ে করেন।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘হুজুর আমাকে বলেছেন, বিয়ের কাবিননামা তোমাকে পরে দেবো। বিয়ের পর ভবেরচর ফিরে এসে প্রথমে আলীপুরা ও বর্তমানে আনারপুরা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছি। হাফেজ হুজুর সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন আমার সাথে ভাড়া বাড়িতে থাকেন। আমাকে তার নিজের বাড়িতে নিতে বললে তিনি বলতেন, আমার আগের ঘরের বিবি-সন্তান আছে, এক সময় তোমাকে আমার বাড়িতে নেব।’

ভূক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, ‘মাস খানেক আগে হঠাৎ হুজুর আমাকে মাদ্রাসায় খবর দিয়ে ডেকে নেন। এরপর তার কক্ষে আটকে রেখে জোর করে সাদা স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর নেন। পরে আমার মোবাইল ফোন থেকে আমাদের দুজনের অন্তরঙ্গ ছবি ও ফোনে বিভিন্ন সময়ের কথাবার্তার রেকর্ড ডিলিট করে দেয়। আমি তার বিয়ে করা বউ না বলে হুমকি দিয়ে বের করে দেয়। হুজুর আমার সন্তানদের অন্য একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। আমি এখন কোথায় দাড়াব?’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাফেজ মাহবূবুর রহমান ওই নারীকে নিয়ে প্রায় এক বছর আগে আনারপুরা এলাকায় সামসুল হকের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। সামসুল হক বাসা ভাড়া নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘মাহবূবুর রহমান তার স্ত্রী নিয়ে থাকার কথা বলে রুম ভাড়া নিয়েছেন এবং বছর ধরে থাকছেন।’ এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ওই নারীকে বিয়ে করার কথা প্রথমে অস্বীকার করেন দারুল হাবীব একাডেমির পরিচালক হাফেজ মাহবূবুর রহমান। একপর্যায়ে তিনি জানান, ওই নারীর সঙ্গে তার একটি বিষয়ে ঝামেলা হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করা হবে।

ad

পাঠকের মতামত