আরব আমিরাতের নতুন সৌদি রাষ্ট্রদূত কে এই আদ্দাখীল?
সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন সৌদি রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হয়েছেন তুর্কি আদ্দাখীল। আদ্দাখীল আরব আমিরাতের নতুন সৌদি রাষ্ট্রদূত হবেন বেশ কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। অবশেষে তাই সত্য হলো। মাত্র চার মাস আগেও যাকে খোদ সৌদি বাদশাহ তিরস্কার করেছিলেন তাকেই আবার বানানো হয় রাষ্ট্রদূত!গত রোববার বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজীজের সামনে শপথ পাঠ করেন রাষ্ট্রদূত হিসেবে।তার সঙ্গে আবুধাবির যুবরাজ ও দেশের প্রকৃত শাসক শেখ মুহাম্মাদ বিন জায়েদের সঙ্গে রয়েছে খুব ঘনিষ্ঠতা।
অনেক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদ হলো তুর্কি আদ্দাখীলের ‘অবদান’ এর প্রতিদান। কারণ ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ব মিডিয়া যখন যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের দিকে সন্দেহের আঙুল উঠেয়েছিল, ঠিক তখন তিনি তার লেখা ও টুইটার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মোহাম্মাদ বিন সালমানকে বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন।যদিও তিনি প্রয়াত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকেও নিজের বন্ধু ও সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক পরিচয় দেন।
১০ জুলাই ২০১৩ সালে সৌদি পত্রিকা আর-রিয়াদে লেখা এক প্রবন্ধে তিনি জামাল খাশোগিকে তার ‘বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে হত্যাকাণ্ডের পর নিজেকে খাশোগির বন্ধু দাবি করলেও তিনি অবস্থান নেন তার বিরুদ্ধে। আর সেটা মূলত তারই জীবিত বন্ধু মোহাম্মাদ বিন সালমানকে বাঁচানোর জন্য। অনেক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বন্ধুর প্রতি বন্ধুর এই ভূমিকার কারণে তাকে প্রতিদান হিসেবে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত নির্বাচিত করা হয়।
কে এই তুর্কি আদ্দাখীল? তুর্কি আদ্দাখীল হলেন নিহত সাংবাদিক জামাল খাশোগির ‘বন্ধু’ ও তারই সম্পাদনায় প্রকাশিত সৌদি থেকে প্রকাশিত আল-ওয়াতন পত্রিকার একজন লেখক। তার সঙ্গে রয়েছে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের ঘনিষ্ঠতা। খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর যখন মোহাম্মাদ বিন সালমানকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করা হচ্ছিল তখন তার পক্ষে শক্তভাবে কলম ধরেন তুর্কি আদ্দাখীল। ২০১৭ সালে মুহাম্মাদ বিন সালমান তার সঙ্গে যে ফোনালাপ করেছেন এবং তাতে মোহাম্মাদ বিন সালমান যে ইঙ্গিত করেছিলেন- জামাল খাশোগির বিরুদ্ধে বুলেট ব্যবহার করার, যদি তিনি তার সমালোচনা থেকে বিরত না হন, সে বিষয়ে তুর্কি আদ্দাখীল বিস্তারিত ব্যাখা প্রদান করেন মার্কিন পত্রিকা দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে। এই ঘটনার সঙ্গে মোহাম্মাদ বিন সালমানের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
উল্লেখ্য, তার কোনো কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা না থাকলেও গত রোববার তিনি সেই গুরু দায়িত্বই নিজের মাথায় নিয়েছেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত আল আরাবিয়া ডটনেটে সাংবাদিক জামাল খাশোগির কভারেজ না করার কারণে মাত্র চার মাস আগে যাকে সৌদি বাদশাহ চরমভাবে তিরস্কার করেছিলেন, যে কারণে সৌদি বাদশাহ আন্তর্জাতিকভাবে চরম সংকটে পড়েছিল এখন আবার তাকেই বানানো হচ্ছে আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত!
তুর্কি আদ্দাখীল যদিও খাশোগির দরজা দিয়েই এই পদে প্রবেশ করেছেন, তবে ২ অক্টোবর ২০১৮ সালে খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তিনি খাশোগি ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করেননি।ঘটনার অনেক দিন পর ১৪ অক্টোবর একটি প্রবন্ধ লেখেন, যাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি প্রয়োগ করলে পাল্টা ৩০টি পদক্ষেপ নেয়ার হুমকি দেন। তার এই প্রবন্ধ অনেক প্রভাবশালী আরব পত্রিকায় গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে।ইমাম মুহাম্মাদ বিন সৌদ বিশ্ববিদ্যায়ের ধর্মতত্ত্ব অনুষদে পড়াশোনা করেন তুর্কি আদ্দাখীল। ২০১১ সালে ইসলামিক স্টাডিজে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক ইসলামের সঙ্গে তার রয়েছে শত্রুতা।
মিডিয়ায় তিনি অনেক আগ থেকেই কাজ করছেন। ১৯৮৯ সাল থেকে সাংবাদিকতার পেশা সঙ্গে জড়িত আছেন তিনি। ১৯৯৪ সালে তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেনে। এর ৪ বছর পর সংবাদ কভারেজের জন্য কাবুল সফর করেন। ২০০৮ সালে কাবুল সফর নিয়ে ‘আমি আফগানিস্তানে ছিলাম’ নামে একটি বইও রচনা করেন।
২০১৫ সাল থেকে আল-আরাবিয়া ও আল-হাদাছ চ্যানেল দুটিতে তিনি মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন প্রভাবশালী পত্রিকায় প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখছেন নিয়মিত। অ্যারাবিয়ান বিজনেস পত্রিকার জরিপে ২০০৭, ২০১০, ২০১১ ও ২০১২ সালে বিশ্বের শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ১০০ পুরুষের মধ্যে তাকেও গণ্য করা হয়। আরাবি পোস্ট অবলম্বনে মুহাম্মাদ শোয়াইব




