ইজি বাইকে ঘুরে বেড়ানো সেই ছোট্ট মাওয়ার ‘শৈশব’ ফিরিয়ে দেবেন যশোর জেলা প্রশাসক
জান্নাতুল আর দশটা সাধারণ শিশুর মতো নয়। তার জীবন বিচিত্র। মা থেকেও নেই তার। আড়াই বছর বয়স থেকে বাবাই তার মা-বাবা। আনন্দ-বেদনা, মান-অভিমান সব ভাগাভাগি তার বাবার সঙ্গে। অন্য শিশুদের এ সময়টা খেলাধুলায় আর বর্ণ পরিচয়ে কাটলেও তার দিনের বেশির ভাগ সময় কাটে রাস্তায়।ইজিবাইকে বাবার সঙ্গে ‘শৈশব কাটানো’ সেই জান্নাতুল মাওয়াকে (৬) কাছে ডেকে স্নেহের পরশ দিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল। আদর করে শুনলেন তার কথা। কথা বললেন মাওয়ার বাবা ইজিবাইকচালক মুরাদুর রহমান মুন্নার সঙ্গে। মাওয়ার শৈশব ফিরিয়ে দেয়ার ভাবনার কথাও জানালেন যশোরের জেলা প্রশাসক।
এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন বাংলাদেশ টুডেতে প্রকাশ করলে তা ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় মঙ্গলবার তাদের ডেকে নেন যশোরের জেলা প্রশাসক। সর্দি-জ্বর হওয়ায় মাওয়াকে হাসপাতালে পাঠিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধও কিনে দেন তিনি। পরে তাকে আদর করে উপহার দেন। এ সময় তিনি ইজিবাইক চালক মুন্নার সঙ্গেও কথা বলেন।
যশোর শহরের নাজির শংকরপুর চাতাল মোড় এলাকার একটি ইজিবাইক চার্জের গোডাউনে থাকেন ইজিবাইকচালক মুন্না। সারাদিন তিনি ইজিবাইক চালান, আর রাতে ওই গোডাউনে থাকেন। মুন্নার একমাত্র সন্তান জান্নাতুল মাওয়া। মাওয়ার মা স্বামী-সন্তান ছেড়ে চলে গেছে। তাই তাকে পাশে বসিয়ে সারাদিন ইজিবাইক চালান মুন্না। কারণ মেয়েটিকে রেখে যাওয়ার কোনো স্থান তার নেই। ফুটফুটে মায়াবী শিশুটি তাই সারাদিন বাবার পাশেই থাকে।
মুন্না জেলা প্রশাসককে জানান, স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। মেয়েটি বড় হচ্ছে, তাকে স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। এ জন্য তার একটি মাথাগোঁজার ঠাঁই দরকার।জেলা প্রশাসক তাকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন। মেয়েটি যাতে তার স্বাভাবিক শৈশব জীবন ফিরে পায় সেটি নিশ্চিত করার ব্যাপারেও আশ্বস্ত করেন।মুন্না বলেন, ‘ডিসি স্যার ডেকে নিয়ে আমার ও মাওয়ার কষ্টের কথা শুনেছেন। তিনি অনেক স্নেহ-ভালোবাসা দেখিয়েছেন। সহযোগিতা পেলে মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করতে চাই।’




