নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতনের টাকা ভাগবাটোয়ারা
যশোরে ২৫টি বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্সের নন-এমপিও ৩ শতাধিক শিক্ষক মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। প্রতিষ্ঠান থেকে এসব শিক্ষকের বেতন দেয়ার কথা থাকলেও সেটা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। উপরন্তু নন-এমপিও শিক্ষকদের বেতন দেয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চড়া বেতন আদায় করা হচ্ছে। কিন্তু সেই টাকায় ভাগ বসাচ্ছেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা (এমপিও) পাওয়া শিক্ষকরাও। এতে নন-এমপিও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা বলছেন, উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারি হওয়ায় বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্সে শিক্ষার্থী কমেছে। এজন্য শিক্ষকদের বেতন দিতে হিমশিম খেতে হয়। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের এ দাবি মানতে নারাজ নন-এমপিও শিক্ষকরা। তারা বলছেন, বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে বেতন আদায় করা হয়, তার সঠিক বণ্টন হয় না। নানা অজুহাতে ভাগবাটোয়ার করা হয়। এতে নন-এমপিও শিক্ষকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা যায়, যশোরের ঝিকরগাছা মহিলা কলেজে বর্তমানে ৮টি বিষয়ে প্রায় ৮শ’ শিক্ষার্থী অনার্স কোর্সে অধ্যয়নরত। তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৩শ’ টাকা হারে বেতন নেয়া হয়। সেই হিসেবে প্রতি মাসে দুই লক্ষাধিক টাকা বেতন ও ফি আদায় করা হয়। নন-এমপিও শিক্ষককে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫০০ টাকা দেয়া হয়। বাকি টাকা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মাঝে ভাগ করা হয় বলে অভিযোগ আছে। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ শাহিনুর কবীর বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, অনার্স কোর্সের শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকায় নন-এমপিও ১৮ জন শিক্ষককে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫শ’ টাকা পর্যন্ত বেতন দেয়া হয়। বছরে তারা দুটি বোনাস পান। তাদের প্রাপ্য টাকায় অন্য কাউকে ভাগ দেয়া হয় না।
এদিকে যশোর সদরের মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজে অনার্স কোর্সে ৫টি বিষয়ে প্রায় ৮শ’ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে মাসে ২৫০ টাকা বেতন দিতে হয়। এ কোর্সে ৩৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হলেও বর্তমানে ১০ জন কর্মরত আছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা ওই ১০ জনের প্রাপ্য। কিন্তু সেই টাকায় ভাগ বসাচ্ছেন আরো ৩২ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক।
এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ মাহিনুর ইসলাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ৫টি বিষয়ে ৩৫ জন নন-এমপিও শিক্ষক আছেন। এরমধ্যে ১০ জন নিয়মিত আসেন। তারা সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা বেতন পান। পাশাপাশি ৩২ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষককেও বেতন দেয়া হয়। তবে সেটা পরিমাণে কম। শুধু ঝিকরগাছা মহিলা কলেজ কিংবা যশোরের মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ নয়। যশোর জেলার আরো অন্তত ২৩টি বেসরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু রয়েছে। এসব কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা থেকে ৪শ’ টাকা পর্যন্ত বেতন তোলা হয়। কিন্তু সেই টাকা বিধি মোতাবেক নন-এমপিও শিক্ষকদের প্রাপ্য হলেও তারা পাচ্ছেন না। এ নিয়ে তারপরও চাকরি হারানোর ভয়ে শিক্ষকরা মুখ খুলতে পারছেন না।
কলেজগুলো হল- সদরের ডা. আবদুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ যশোর কলেজ, উপশহর কলেজ, হামিদপুর আল-হেরা কলেজ, কাজী নজরুল ইসলাম কলেজ, উপশহর মহিলা কলেজ, নতুনহাট পাবলিক কলেজ, সিঙ্গিয়া আদর্শ কলেজ, মণিরামপুর মহিলা কলেজ, মুক্তেশ্বরী কলেজ, রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, মশিয়াহাটি কলেজ, শার্শার ডা. আফিল উদ্দিন কলেজ, ফজিলাতুন্নেছা মহিলা কলেজ, নাভারণ কলেজ, ঝিকরগাছা মহিলা কলেজ, গঙ্গনন্দপুর কলেজ, বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজ, চৌগাছা মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, এবিসিডি কলেজ, বাঘারপাড়া ডিগ্রি কলেজ, বাঘারপাড়া মহিলা কলেজ, নারিকেলবাড়িয়া কলেজ ও অভয়নগরের নওয়াপাড়া কলেজ।
বাংলাদেশ অনার্স মাস্টার্স শিক্ষক পরিষদ যশোর জেলা শাখার সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে অনার্স কোর্স থেকে পর্যাপ্ত আয় করলেও শিক্ষকদের বেতন ঠিকমতো দেয়া হয় না। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে অর্জিত অর্থ নানা অজুহাতে ব্যয় করা হয়। এতে শিক্ষার্থী ও নন-এমপিও শিক্ষকরা এক প্রকার প্রতারিত হচ্ছেন। অনেকে অর্থকষ্টে চাকরি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।




