সূরা কাউসার নাযিলের প্রেক্ষাপট ও বঙ্গানুবাদ
নিউজ ডেস্ক।। সূরা কাউসার মক্কায় নাযিল হয়। এটিই কুরআনের সবচেয়ে ছোট সূরা। ইসলামের শুরুর দিকে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন ধরনের কষ্ট ও চরম হতাশাব্যাঞ্জক পরিস্থিতি পার করছিলেন তখন তাঁর ওপর সূরা কাওসার নাযিল হয়। তিনি তখন কেবল আল্লাহর ইবাদত করতেন এবং আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এ কারণে কুরাইশরা ছিল তাঁর প্রতি বিরূপ। এ জন্যই নবুওয়াত লাভের আগে সকল জাতির মধ্যে তাঁর যে মর্যাদা ছিল নবুওয়াত লাভের পর তা ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। তাঁকে এক রকম জ্ঞাতি-গোত্র থেকে বিছিন্ন করে দেওয়া হয়েছিল।
তাঁর সঙ্গী-সাথী ছিলেন মাত্র মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোক। তারাও ছিলেন বন্ধু-বান্ধব ও সহায়-সম্বলহীন। তাঁরাও জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করে চলছিলেন। সেই সঙ্গে একের পর এক সন্তানের মৃত্যুতে তাঁর ওপর যেন দুঃখ ও শোকের পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছিল। এ সময় আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী ও প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে যিনি শুধু আপন লোকদের সঙ্গেই নয়, অপরিচিত ও অনাত্মীয়দের সঙ্গেও সবসময় পরম প্রীতিপূর্ণ ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার করছিলেন। এ অবস্থায় এ ছোট্ট সূরাটির একটি বাক্যে আল্লাহ হুজুর সা. কে এমন একটি সুখবর দিয়েছেন যার চাইতে বড় সুখবর পৃথিবীর কোন মানুষকে কোন দিন দেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে তাঁকে এ সিদ্ধান্তও শুনিয়ে দেয়া হয়েছে যে, তাঁর বিরোধীদেরই শিকড় কেটে যাবে।
সূরাটির বাংলা উচ্চারণ : ১. ইন্না আ’তইনা কাল কাউসার। ২. ফাসল্লিলি রব্বিকা ওয়ান হার। ৩. ইন্না শানিআকা হুয়াল আবতার।
বঙ্গানুবাদ : ১.(হে নবী!) আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি। ২. কাজেই আপনি আপনার রবের জন্য নামায পড়–ন ও কুরবানি করুন। ৩. তোমার দুশমনই শিকড় কাটা।




