260206

গবেষকদের সমীক্ষা, তিন খাদ্যাভ্যাসে চট্টগ্রামে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক।। মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নেন মোট রোগীর ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। তাদের মধ্যে আবার ৭৩ শতাংশই গ্রামে বসবাসকারী। এই বিপুল জনগোষ্ঠীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার জন্য বিষযুক্ত শুঁটকি খাওয়া, পান দিয়ে পানিতে পচানো সুপারি খাওয়া এবং অতিরিক্ত ঝালযুক্ত তরকারি খাওয়াকে দায়ী করেছেন গবেষকরা।

সম্প্রতি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির অধীনে পরিচালিত ল্যাবরেটরি অব ইউকারেউটিক জিন এক্সপ্রেশন অ্যান্ড ফাংশন এবং চিটাগাং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর চিলড্রেন সার্জারি (ক্রিকস) যৌথভাবে একটি সমীক্ষা চালায়। তাদের এই গবেষণায় উপরি-উক্ত তিনটি বিষয় ছাড়াও তামাক সেবন, নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বিয়ে হওয়াও ক্যানসারের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
চমেক সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে চমেক হাসপাতালে ক্যানসারে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন ৫ হাজার ৭৬৮ জন। ২০১৭ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৫০৮। এ ছাড়া ২০১৬ সালে ৪ হাজার ৬১২, ২০১৫ সালে ৫ হাজার ৩০৮, ২০১৪ সালে ৫ হাজার ৭০২, ২০১৩ সালে ৫ হাজার ১৮৪ এবং ২০১২ সালে ৪ হাজার ৫২৬ জন ক্যানসার রোগী শনাক্ত হয়। এর মধ্যে পুরুষরা ফুসফুস ও শ্বাসনালির ক্যানসারে আক্রান্ত বেশি। মহিলারা বেশি আক্রান্ত স্তন ও জরায়ুর ক্যানসারে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা।

গবেষণা সূত্রে জানা যায়, ক্যানসার আক্রান্তদের মধ্যে ৭৩ শতাংশেরই বসবাস চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায়। নগরীতে এ হার মাত্র ২৭ শতাংশ। নারীদের ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার হার পুরুষের তুলনায় বেশি। ক্যানসার শনাক্তদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী। গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্যানসার আক্রান্তের হারকে উদ্বেগজনক বলছেন গবেষকরা। এর মধ্যে প্রায় ৩১ শতাংশ কক্সবাজার জেলার, ১৫ শতাংশ করে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার, ১৩ শতাংশ দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার এবং ১৩ শতাংশ উত্তর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার।

চট্টগ্রামে ক্যানসার স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামকে। বৃহত্তর কক্সবাজার এলাকায় ব্রেস্ট, জরায়ু ও খাদ্যনালির ক্যানসারের রোগী বেশি। সীতাকু–মিরসরাই এলাকায় রয়েছেন ফুসফুসসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার রোগী। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকার বাসিন্দা জ্যোৎস্না বেগম। গত ২ ফেব্রুয়ারি তার জরায়ুতে অপারেশন করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি মহেশখালী উপকূলে। তাকে অতিরিক্ত ঝাল ও পান না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডাক্তাররা।

চমেক হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. আলী আসগর চৌধুরী বলেন, কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, সীতাকু-, মিরসরাইসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে ক্যানসার আক্রান্ত রোগী বেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন। নতুন রোগীদের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ এসব এলাকার বাসিন্দা। হাসপাতালে নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন আনা হয়েছে। স্তন ক্যানসারে আক্রান্তদের জন্য ব্র্যাকি থেরাপি মেশিন বসানোর প্রক্রিয়া চলছে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আমাদের সময়কে বলেন, উপকূলের মানুষ সামুদ্রিক মাছ ও শুঁটকি বেশি খায়। সমুদ্রে রাসায়নিক বর্জ্য ফেলা হয়। এসব বিষাক্ত বর্জ্য সাগরের মাছের ভেতরে ঢোকে। এ ছাড়া শুঁটকি তৈরির সময় সারসহ একাধিক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে। আর সামুদ্রিক মাছ এবং শুঁটকি সেখানকার বাসিন্দারা বেশি খায়। হয়তো তাই ক্যানসারের ঝুঁকিটা তাদের বাড়ছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।

ad

পাঠকের মতামত