বইমেলায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ক্ষুদে র্যাব!
শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অন্য দিনের তুলনায় বইপ্রেমী, দর্শনার্থী, লেখক পাঠকের পদচারণায় মুখরিত অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ। বইমেলায় আগতদের বেশিরভাগই এসেছেন দল বেধে। কেউবা পরিবারের সদস্য নিয়ে কেউ বন্ধু-বান্ধব বা প্রিয়জনকে নিয়ে। বিকেল থেকে বইপ্রেমী, দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়তে থাকে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী অংশের গেইটের দিকে যারাই আসছেন তারাই একটা অবাক করা কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে তাকাচ্ছেন এক শিশুর দিকে। কেউ কেউ সেই শিশুটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, খোশগল্প করছেন, হাসছেন আবার কেউ কেউ ছবি তুলছেন এমনকি সেলফিও নিয়ে রাখছেন অনেকে। সবমিলিয়ে ছোট্ট এই শিশুটিকে ঘিরে এক ধরনের জটলা তৈরি হয়েছে সেখানে।
এগিয়ে গিয়ে দেখা গেল, সেখানে বাবার হাত ধরে দাঁড়ানো সাড়ে ৩ বছর বয়সী একটি শিশু। নাম অপু। বইমেলায় ঘুরতে বাবার সঙ্গে এসেছে নারায়ণগঞ্জ থেকে। কিন্তু সবার আগ্রহের কারণ শিশুটি একজন র্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ান-র্যাব সদস্যের আদলে সেজে এসেছে মেলায়। পা থেকে মাথা পর্যন্ত পুরো সাজটাই ছিল একদম র্যাব সদস্যের আদলে। বাদ যায়নি নেমপ্লেটও। বুকের ডানপাশে নেম প্লেটে ছোট করে লেখা আছে তার নাম ‘অপু’।
হাতে অস্ত্র হিসেবে আছে অধুনিক একটি খেলনা। কোমরে বেল্টের সঙ্গে কভারে রাখা আছে ছোট আরও একটি খেলনা পিস্তল। পুরো মাথায় বাঁধা কালো রুমাল, চোখে কালো সানগ্লাস। সবমিলিয়ে একজন পেশাদার র্যাব সদস্যরও মতনই দেখাচ্ছে সাড়ে তিন বছর বয়সী শিশু অপুকে। তার দিকে যারাই এগিয়ে যাচ্ছে সে-ও স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের সঙ্গে ছবি তুলছে। বলছে নানা ধরনের কথা বার্তাও। যা মেলায় আগতদের আলাদা আনন্দ দিচ্ছে।সাময়িক সময়ের জন্য মজা পাচ্ছেন মেলায় আগতরা। ক্ষুদে এই র্যাব সদস্য অপু বইমেলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তুমি কে? প্রশ্ন করতেই শিশু অপু জানাল, ‘আমি র্যাব, ধরে নিয়ে যাব কিন্তু! আমার ছবি তুলতে এসেছ?
কথা হয় অপুর বাবা হিরা লাল শাহার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি পেশায় ঝালমুড়ি বিক্রি করি। নারায়ণঞ্জে আমার বাড়ি। মাঝে মাঝে ওসি স্যারের বাড়িতে কাজকম করি। আমার ছোট ছেলে বাড়ির কাছে সবসময় র্যাব-পুলিশকে দেখে। তাই তার শখ বড় হয়ে র্যাব হবে। ওকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে ‘বড় হয়ে কী হবে’? সোজাসাপ্টা তার উত্তর-‘র্যাব’।অপুর বাবা বলেন, ‘আমি তেমন শিক্ষা অর্জন করতে পারিনি জীবনে। তাই আমারও শখ ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে শিক্ষিত মানুষ বানিয়ে দেশের সেবায় একজন গর্বিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য বানানো। এটা আমার খুব ইচ্ছা।’
তিনি বলেন, ‘অপুর শখ এবং আমার ইচ্ছে মিলিয়ে এভাবে র্যাব সেজেছে সে। যেকোনো মেলা, সেমিনার, সভা, সমাবেশে এভাবেই অপুকে সাজিয়ে নিনে যায়। এতে আমার, অপুর দু‘জনেরই ভালো লাগে। আর অন্য মানুষগুলোও তাকে দেখে খুবই মজা পায়, ছবি-সেলফি তোলে। ওর সঙ্গে গল্প করে। তাই আজ এভাবে র্যাব সাজিয়ে ওকে নিয়ে মেলায় এসেছি।’




