ভার্সিটিতে একজন ম্যাডাম ছিলেন; কম বয়স্ক; প্রচন্ড সুন্দরী, শুনেছি তিনি….
ফেসবুক থেকে ঢাকার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভাই আব্দুল্লাহ (ছদ্মনাম)। পোশাকআশাক দেখে মনে হয় খুব বুজুর্গ, তাকওয়াবান, ইসলাম ভীরু। তার সাদা জুব্বা, পাগড়ির মত তার অন্তরও পরিষ্কার! ভার্সিটিতে একজন ম্যাডাম ছিলেন; কম বয়স্ক; প্রচন্ড সুন্দরী। শুনেছি তিনি মডেলিং করে তাই কাপড়ও সেরকম পরিধান করতো। তিনি ক্লাস নিতে রুমে ঢুকলেই ছেলেদের মন খুশি হয়ে যেত! এই শিক্ষিকার ক্লাস কোন ছেলে সচরাচর মিসও দিত না… তিনি ছাত্রদের সাথে কথা বলতে, বন্ধু সুলভ আচরণ করতে পছন্দ করতেন। বন্ধু সুলভ আচরণ করতো। যুবক রা শিকারি চোখে দেখছে- এই ব্যাপার টা উনার বেশ ভালই লাগতো।
.
ক্যাম্পাসে সম্ভবত একমাত্র আব্দুল্লাহ ভাই ই ছিলেন যিনি দৃষ্টি সংযত রাখতেন ম্যাডাম সামনে পড়লে। ক্লাসেও তিনি সর্বক্ষণ নিজ পায়ের দিকে তাকিয়ে থাকতেন। বোর্ডের দিকে তাকাতেও ইতস্তত বোধ করতেন। ব্যাপারটা ম্যাডাম বেশ কয়েক মাস ধরে লক্ষ্য করলো। একদিন ক্লাস শেষে আব্দুল্লাহ ভাইকে ধমক দিয়ে তিনি করিডোরে দেখা করতে বলেন। থতমত খেয়ে ভয়ার্ত অবস্থায় সে ভাই গেলেন টিচারের সামনে…. – ম্যাডাম :- “কি সমস্যা তোমার? ক্লাসে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকো কেন?” – আব্দুল্লাহ :- “জি মানে…….” – ম্যাডাম :- “কি মানে মানে করছো? সবাই আমার কাছে ব্যক্তিগত ভাবে ক্লাসের পর পড়া না বুঝলে বুঝে নেয়, ক্লাসে প্রশ্ন করে! তুমি তো লেকচারারের দিকে তাকাওই না! কই থাকে মন?” – আব্দুল্লাহ :- “আপনার দিকে তাকাতে লজ্জা লাগে ম্যাম।”
– ম্যাডাম :- “ছি ছি! কি বললা!!! হুজুর সেজে মেয়ে মানুষ কে এভাবে দেখো?” – আব্দুল্লাহ :- ম্যাম, আপনাকে নিয়ে ছেলেরা কি কি বলে, তা প্রকাশ করার অযোগ্য। ম্যাম আপনি পর্দা করেন না।”
খের উপরে পর্দা নিয়ে বলাতে মেয়েটির গায়ে কথাটা বেশ ভালমত লাগলো। অপমানিত হয়ে তিনি অথোরিটির কাছে মানহানির কমপ্লেইন করে। পরদিনই আব্দুল্লাহ ভাই কে সাসপেন্ড করা হয়। ম্যাডামও ২-৩ দিন আর আসে না… ঘটনার পর যখন ম্যাম প্রথম ক্যাম্পাসে আসে, ছেলেমেয়েরা স্তব্ধ হয়ে যায়! তিনি হিজাব পরেছেন! কারো সাথে ঠিকমত কথা বলছে না, কোন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে না! পর দিন তিনি আবার অথরিটি কে বলে আবদুল্লাহ ভাইয়ের ক্লাস করার অনুমতি নিলেন। পরবর্তীতে আব্দুল্লাহ ভাই থেকে শুনেছি- এই টিচার তাকে চিঠির মাধ্যমে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি সব রকম হারাম পরিত্যাগ করতে চাচ্ছে। সম্পূর্ণ ভাবে ইসলামের পথে নিজের জীবন কে প্রচলন করতে চাচ্ছে।
.
২ মাসের মধ্যে আমরা ম্যাডামের দু’চোখ ছাড়া আর কিছু দেখতাম না। তিনি ছেলেদের সাথে কথা বলতেন না, বেশিক্ষণ ক্যাম্পাসেও থাকতেন না। এর কিছুদিন পর আর ম্যাডাম কে ভার্সিটি তে কখনো দেখি নি।
আবদুল্লাহ ভাইও তার খবর জানেন না…




