259410

দেশে জানুয়ারিতেই ৪৬ ধর্ষণ: নজর শিশুদের উপরে কেন?

ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। ধর্ষণের নির্মমতা খুবই ভয়াবহ। এটা কতটা ভয়াবহ তা কি ধর্ষকরা বুঝে? ধর্ষকরা কি কখনও বোঝার চেষ্টা করে তাদের পরিবারে একটা শিশুকন্যা রয়েছে? কালকে সেই কন্যাকে ধর্ষণ করবে না তার কোন নিশ্চয়তা আছে কি? যদি উত্তর না হয়, তাহলে আমরা কেন ৩০ লাখ শহীদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি?১৯৭১ গেছে, আজ ২০১৯। ধর্ষণ কিন্তু থেমে নেই। একাত্তরের যুদ্ধের সময় মা-বোনেরা ধর্ষণের শিকার হয়েছে, কিন্তু স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর আজকে কেন ধর্ষণ করা হচ্ছে আমাদের অবুঝ শিশুটিকে?

তাহলে কি আমরা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক না? এ প্রশ্ন জাতির কাছে? খবরের কাগজ আর অনলাইনে চোখ বোলালেই চোখে পড়ে কোন এক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কি দোষ করেছিলো আমার সেই ছোট্ট বাচ্চাটি? নাকি আমার শিশুটি মেয়ে হয়ে জন্মেছে এটাই তার দোষ? এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে আমাকে?গত জানুয়ারিতে মোট ৪৬টি ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে যার অধিকাংশই শিশু। মোট ২৯টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে এই সংখ্যা নির্ধারণ করা হলেও অধিকার সংগঠনগুলো বলছে এর সংখ্যা আরও বেশি।

কেন এই অবুঝ শিশুর উপরে নজর? গত মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২৯টি শিশু যা মোট ধর্ষণের শিকারের ৬৩ ভাগ। এর ১৩ জনেরই বয়স ৫ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। এ ছাড়াও, গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে একটি ৫ বছর বয়সী শিশুসহ মোট ৩ জনকে এবং আহত হয়ে ৫ দিন পরে আরো একজন নিহত হয়েছিলো বলে জানা গেছে।মোট ধর্ষণের শিকার ৪৬ জনের ১১ জনকেই গণধর্ষণ করা হয়েছে যার অন্তত ৫ জন শারীরিকভাবে অক্ষম এবং দু’জন ছিলো আদিবাসী। তবে গত মাসে মোট ধর্ষণের শিকার নারী ও শিশুর সংখ্যা ৭১ জন এবং এর ৩২ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে দাবি করছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও শালিস কেন্দ্র।

ধর্ষণের শিকার আমার শিশুকন্যাটি হয়তো বেঁচে থাকতে চায় ধর্ষণের গ্লানি নিয়ে। আবার কেউ ধর্ষণের পর বাঁচার আশা থাকলেও বাঁচতে দিচ্ছে না ধর্ষকরা। কোন সমাজে রাখলে নিরাপদে থাকবে আবার শিশুকন্যাটি? জানতে চাই জাতির কাছে? (আরেফিন সোহাগ-লেখক ও সাংবাদিক)   খোলা কলামে প্রকাশিত সব লেখা একান্তই লেখকের নিজস্ব মতামত। এর সাথে পত্রিকার কোন সম্পর্ক নেই। সূত্র: বিডি২৪লাইভ

ad

পাঠকের মতামত