বাংলাদেশের হৃদয় অনেক বড়: অ্যাঞ্জেলিনা জোলি
রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের উদারতার প্রসংশা করতে গিয়ে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের হৃদয় অনেক বড়, আমি টের পেয়েছি।’বুধবার দুপুরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে এই কথা বলেন।এর আগে সোম ও মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিশেষ দূত হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সরেজমিন রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে কক্সবাজারের একাধিক রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন।
রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক তহবিল সংগ্রহে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টিতে জনমত তৈরির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।বৈঠক শেষে ড. এ কে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, আমি অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে প্রস্তাব দিয়ে বলেছি, আপনি বলিউডে বড় ধরনের ইভেন্ট তৈরি করে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসুন। তাদের জন্য জনমত তৈরি করুন। এ সময় একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশের সহায়তায় জর্জ হ্যারিসনের তহবিল সংগ্রহ ও জনমত তৈরির উদাহরণ টানেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।এ প্রস্তাবে জোলি সম্মতি জানিয়েছেন বলেও জানান ড. মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকগুলো দেশ আমাদের সহায়তার অঙ্গীকার করেছে, কিন্তু সেভাবে সাহায্য আসছে না। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এ বছর রোহিঙ্গাদের রক্ষণাবেক্ষণে ৯৫২ মিলিয়ন ডলার খরচ ধরা হয়েছে। কিন্তু এখনো এর ৪০ শতাংশও আসেনি।মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতি সবাই কমবেশি সমব্যথী, তবে তাদের এই সমবেদনা যথেষ্ট নয় বলে আমি জানিয়েছি।ড. মোমেন আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের পাঠানোর সময় মিয়ানমার কোনো শর্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়নি। এখন নেয়ার সময় তারা বিভিন্ন ধরনের শর্ত দিচ্ছে। আমরা জোলিকে বলেছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দিতেন তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সবচেয়ে বড় জেনোসাইড হত ওখানে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নে ইতোমধ্যে ২৪ হাজার রোহিঙ্গা মারা গেছে, ১৮ হাজার ধর্ষণের শিকার হয়েছে, এক লাখ ১৫ হাজার ঘরবাড়ি পুড়িয়ে ফেলেছে, এক লাখ ২০ হাজার ঘরবাড়ি ভেঙে ফেলেছে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা আমাদের দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এদের বেশিদিন রাখার ক্ষমতা আমাদের নেই। আমরা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। তবে আমাদের হৃদয় অনেক বড়।
মোমেন বলেন, রোহিঙ্গারা যদি অনেকদিন এখানে থাকে তাহলে চরমপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, যা এ অঞ্চলের সবার জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। এটা সবার জন্যই অমঙ্গল বয়ে আনবে।অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বলেছেন মিয়ানমার চার দশক ধরে এই সঙ্কট জিইয়ে রেখেছে। এর সমাধান প্রয়োজন। এই বিষয়ে বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন থাকবে বলে জোলি বলেছেন।




