প্রবাসী শ্রমিক কমানোর আগ্রাসী নীতিমালায় বিপদে সৌদি আরব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি সৌদি সরকারের নীতিমালায় যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, তাতে ৬০ বছর বয়সের প্রবাসী শ্রমিকদেরকেও সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে। তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে সৌদি সরকার অর্থনীতি বহুমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিদেশীদের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগ বাড়াতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে সৌদি সরকার। শুধু তা-ই নয়, বিদেশী শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীলদের ওপর ফি আরোপ করেছে এবং কোন ক্ষেত্রগুলোয় বিদেশী শ্রমিক কাজ করতে পারবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এ অবস্থায় দেশটিতে জীবনধারণ ব্যয় প্রচুর বেড়ে গেছে। ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্বল্প মজুরি পাওয়া বিদেশী শ্রমিকরা।
এ পরিস্থিতিতে দেশটির শ্রমবাজার থেকে বিদেশী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ চলে যাচ্ছে; যা সৌদি আরবের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে উঠছে। বিদেশী শ্রমিকদের আকস্মিক বহির্গমনপ্রবাহ সৌদি অর্থনীতিকে ঢেলে সাজানোর প্রচেষ্টায় থাকা যুবরাজ প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমানের জন্যও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।যুবরাজ সালমানের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে সৌদির বেসরকারি খাতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি। বর্তমানে এ খাতটিতে বিদেশী কর্মীদেরই আধিপত্য। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, বিদেশী শ্রমিক চলে গেলে এ খাতে যে পরিমাণ শূন্য পদ সৃষ্টি হবে তা পূরণের জন্য সৌদি নাগরিকরা যথেষ্ট নয়। আর পর্যাপ্ত কর্মী না পেলে অর্থনৈতিক নিম্নমুখিতায় ধুঁকতে থাকা ব্যবসায়ীদের ওপর তা আরো চাপ সৃষ্টি করবে।
সৌদির পরিসংখ্যান দপ্তরের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের শুরু থেকে গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত শ্রমবাজার থেকে ১১ লাখের বেশি বিদেশী কর্মী সৌদি ছেড়েছে। অবশ্য বিদেশী শ্রমিকদের বড় একটি অংশ চলে যাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। ২০১৩-১৭ সালের মধ্যে হাজার হাজার বিদেশী কর্মী সৌদি ছেড়ে যায়। যদিও তখন প্রস্থানের কারণ ছিল ভিন্ন। কর্ম ভিসা স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের ধরপাকড় অভিযানে সে সময় অনেক বিদেশী কর্মীই সৌদি ছেড়েছিলেন। কিন্তু বিদেশী শ্রমিকদের সাম্প্রতিক বহির্গমন ঘটছে অর্থনৈতিক কঠোর অবস্থা এবং জীবনধারণের কষ্ট থেকে।
দীর্ঘমেয়াদে বিদেশী কর্মীদের প্রস্থান সরকারের সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার একটি অংশ। অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে সৌদির বিশাল তরুণ প্রজন্মের জন্য কাজের সংস্থান করা। বর্তমানে দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশির বয়স ৩০ বছরের নিচে। এ বিপুলসংখ্যক তরুণের কাজের ব্যবস্থা না করে দিতে পারলে অন্য আরব দেশগুলোর মতো এখানেও হতাশা থেকে তরুণরা বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন, যা সৌদি রাজতন্ত্রের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে।
এ অবস্থায় ১২ দশমিক ৯ শতাংশ বেকারত্ব হার সৌদি সরকারের অন্যতম উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বর্ধনশীল বেকারত্ব হারের কারণে সরকারকে স্বল্পমেয়াদে বেকারত্ব কমানোর লক্ষ্য পরিবর্তনে বাধ্য করছে। কিন্তু এতে করে সৌদির স্থানীয় কর্মীদের কর্মপ্রত্যাশা ও প্রাপ্য কাজের মধ্যে ব্যবধান আরো প্রকট হয়ে উঠছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, বিদেশী শ্রমিকরা মূলত নির্মাণ অথবা রিটেইল খাতের স্বল্প মজুরির কাজগুলো করতেন, ফলে তারা চলে যাওয়ার পর এসব কাজই থেকে যাচ্ছে, যা সৌদির স্থানীয়দের মোটেও পছন্দ নয়। ফলে বিদেশী কর্মী নির্ভরশীল খাতগুলো এখন ধুঁকছে। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট, ভাষান্তর : বণিক বার্তা




