সৌদির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষুব্ধ এরদোয়ান
সৌদি আরবের ভিন্ন মতাবলম্বী সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যার ঘটনায় রিয়াদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে অগ্রাহ্য করে এ ঘটনায় রিয়াদকেই সমর্থন দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এ নিয়েই ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রেসেপ তায়েপ এরদোয়ান।রোববার দেশটির সরকারি সংবাদ মাধ্যম টিআটি’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এরদোয়ান বলেন, ‘এ রকম একটা ভয়াবহ ঘটনা নিয়ে আমেরিকার নীরবতার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। এমনকি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা স আইএ’কে আমরা এ সংক্রান্ত প্রমাণাদি সরবরাহ করার পরও তারা এ নিয়ে সোচ্চার হয়নি।’
তিনি খাশোগি হত্যাকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত ও বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমরা চাই এই নৃশংসতার প্রকৃত ঘটনাটি প্রকাশ পাক। কেননা এটি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, একটি হত্যাকাণ্ড।’প্রসঙ্গত, গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজপত্র আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন সাংবাদিক খাশোগি। পরে জানা যায়, ওইদিন কনস্যুলেটের অভ্যন্তরেই খাশোগিকে হত্যা করেছিলো সৌদি ঘাতক টিম।এ ঘটনায় শুরু থেকেই সৌদি কর্তৃপক্ষ জড়িত আছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন তুরস্কের তদন্তকারী কর্মকর্তারা। এমনকি তারা আরো দাবি করেন, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ সালমানের নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।
তবে প্রথমদিকে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেও দীর্ঘ ১৭ দিন পর অনেকটা বাধ্য হয়েই কনস্যুলেটে খাশোগির নিহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে নেয় সৌদি সরকার। তারা এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে।তবে সৌদি তদন্তে সন্তুষ্ট নয় তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। তারা শুরু থেকেই এ ঘটনার আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করে চলেছে।তবে এ নিয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চায় না ট্রাম্প প্রশাসন। তাই তারা এ বিষয়ে আশ্চর্যজনকভাবে নীরব রয়েছে যা নিয়ে বিরক্ত প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। সূত্র: আল জাজিরা




