257239

যৌন উত্তেজক ও নকল ওষুধ তৈরি করতো তারা

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির নকল ও যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরির সরঞ্জামসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শনিবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।রবিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।গ্রেফতার পাঁচজন হলেন- মোহাম্মদ আবদুস সোবহান, মোহাম্মদ নাঈমুর রহমান তুষার, রিয়াজুল ইসলাম মৃদুল, মোসাম্মৎ নারগিছ বেগম ও মোহাম্মদ ওয়াহিদ।এরা দীর্ঘদিন ধরে একাধিক কোম্পানির নাম ও মোড়ক নকল করে নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ওষুধ বাজারজাত করে আসছিল।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে প্রিন্টার, রঙের কৌটা, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও ব্যাচ নং লেখাসহ বিভিন্ন প্রকার সিল, একটি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির ৩০০ পিস নকল ইনসুলিন, নকল সেক্স পাওয়ার ক্যাপসুল ৮৪ হাজার পিস, অ্যাক্ট্রাপিড ১০ মিলি ৬৫ পিস, জি পেথিডিন প্লাস্টিকের একটি ট্রে প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের জি পেথিডিন ইনজেকশনের ১ রোল ওয়ালপেপার (স্টিকার), প্রিমিয়ার ফার্মাসিটিক্যালসের অ্যালাট লেখা ওষুধের ফয়েল পেপার জব্দ করা হয়েছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, ‘সোবহান দীর্ঘদিন ধরে একাধিক কোম্পানির লেবেল ব্যবহার করে নিজস্ব প্রযুক্তিতে উৎপাদিত ওষুধে সব তথ্য সম্বলিত সিল দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ বিভিন্ন ওষুধ বিভিন্নভাবে সংগ্রহ করে মেয়াদ, ব্যাচ নং, মূল্য ইত্যাদি নতুনভাবে সংযোজন করে পুনরায় বাজারজাত করে আসছিলেন বলে জানান।’

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপির এই অ্যাডিশনাল পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে নকল ওষুধ তৈরি করে আসছিল। শিশুদের দিয়েই নানান অভিনব কৌশলে তারা এসব সরবরাহ করাতো। বিভিন্ন অখ্যাত ফার্মেসির মাধ্যমে মার্কেটিং করে নকল ওষুধগুলো বিক্রি করে জনসাধারণকে প্রতারিত করে আসছিল।’তিনি আরও বলেন, ‘পুরো চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান চলবে। আমাদের মূল টার্গেট, এখন কারা কীভাবে কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন কোন বিশেষ ফার্মেসিকে এসব ওষুধ বিক্রির জন্য ব্যবহার করে আসছে। খুব দ্রুতই আমরা আরও বেশ কিছু চক্রকে ধরতে পারবো বলে মনে করছি। এসব নকল ওষুধ মানুষের কাজে আসে না, বরং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।’

ad

পাঠকের মতামত