লাল জামার অপেক্ষায় মনিরুলের ছেলে
নিউজ ডেস্ক।। ২০১৭ সালের ২৫ মার্চ সিলেটের আতিয়া মহলে জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলাকালে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণ হারান পুলিশ পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম সোহেল। এর পর পেরিয়ে গেছে প্রায় দুই বছর। এতদিন পর, আজও এই পুলিশ কর্মকর্তার ফেরার প্রতীক্ষায় অধীর হয়ে আছে তার একমাত্র ছেলে মোজাক্কেরুল ইসলাম ফারাবি। প্রায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এই অবোধ শিশুটি মনে করছে তার প্রিয় বাবা এখনো বেঁচে আছেন। তিনি ঢাকায় চাকরি করেন। বাড়ি ফেরার সময় ওর জন্য একটি লাল জামা নিয়ে আসবেন।
মনিরুল ইসলাম সোহেলের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী সদরের পূর্ব এওজবালিয়ায়। তার স্ত্রী পারভিন আক্তার বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি শাখায় আমাকে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। আমি মাইজদীতে বাসা ভাড়া করে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পরীক্ষা দিয়েছি। আশা করি, যোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী আমার একটি স্থায়ী চাকরির ব্যবস্থা করবেন। ছেলে ফারাবির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় একটি জমি বা ফ্ল্যাটের জন্যও প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি রেখেছেন পারভিন।
নিহত এ পুলিশ কর্মকর্তার মা ফিরোজা খাতুন বলেন, আমার সন্তানের প্রকৃত খুনিদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হোক। যেন এভাবে আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। এ ছাড়া চাঞ্চল্যকর সেই অভিযানে তার সন্তানের প্রাণ উৎসর্গের বিষয়টি স্মরণীয় করে রাখতে তার নামে একটি সড়ক বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামকরণ করা হোকÑ প্রত্যাশা এ জননীর। সন্তান বিয়োগের ঘটনা স্মরণে এখনো অশ্রু ঝরে তার।
ফিরোজা খাতুন আরও বলেন, প্রতিমাসে আমার চিকিৎসায় প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। অথচ এ খরচ বহনের সঙ্গতি নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী যদি আমার ছোট ছেলের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করেন, তা হলে খুবই কৃতার্থ হব। তিনি জানান, মনিরুলের মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। সেই সময় পুত্রবধূ ছাড়াও ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম শামীমের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করেছিলেন। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




