পরীক্ষা দেয়া হলো না প্রতিবন্ধী ছাবিনার
নিউজ ডেস্ক।। সারা দেশে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে গতকাল। প্রথমদিন কোরআন বিষয়ের পরীক্ষা হলেও সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রতিবন্ধী ছাবিনা খাতুনের পরীক্ষা দেয়া হলো না। ছাবিনা উপজেলার হাজী আবেদ আলী মেমোরিয়াল মহিলা দাখিল মাদরাসার ছাত্রী এবং আলীগ্রামের মো. ছাইদুর রহমানের মেয়ে। ছাবিনা খাতুনের অভিযোগ, সে ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষে দাখিল শ্রেণির ছাত্রী হিসেবে তার মাদরাসার সুপার সুলতান মাহমুদের কাছে নিবন্ধন ও ফরম পূরণের জন্য ৭ হাজার টাকা দিয়েছেন। ইতিপূর্বে নিবন্ধনপত্র চাইলে সুপার তাকে একবারে প্রবেশপত্র প্রদানের সময় দেয়া হবে বলে জানান। আর সেই মোতাবেক গত বৃহস্পতিবার সে সুপারের কাছে গিয়ে নিবন্ধনপত্র ও প্রবেশপত্র চায়।
সুপার সুলতান মাহমুদ পরীক্ষা শুরুর দিন উল্লাপাড়া কামিল মাদরাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশপত্র প্রদান করা হবে বলে জানান। গতকাল কামিল মাদরাসায় পরীক্ষা দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এসে ছাবিনা জানতে পারে, তার মাদরাসা থেকে এ বছর কোনো শিক্ষার্থীর দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণ করা হয়নি। এদিকে, সুপার সুলতান মাহমুদকেও পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাবিনা খুঁজে পায়নি। পরে সে পরীক্ষা দিতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ছাবিনা জানায়, তার মাদরাসার সুপার বড় হবার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছেন। অনেক কষ্টে সে এতদূর এগিয়ে এসেছে। সে সুপার সুলতান মাহমুদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে।
গতকাল ছাবিনা খাতুনের বাবা ছাইদুর রহমান দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের সভাপতি ও উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে উক্ত সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে হাজী আবেদ আলী মেমোরিয়াল মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার সুলতান মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ছাবিনা খাতুনের কাছ থেকে দাখিল পরীক্ষার নিবন্ধন ও ফরম পূরণের কোনো টাকা নেননি বলে দাবি করেন। সুপার জানান, তার মাদরাসা এমপিওভুক্ত নয়। ছাত্রী ও শিক্ষক না থাকার জন্য মাদরাসাটি কিছুদিন আগে বন্ধ করে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার উপজেলায় নন এমপিওভুক্ত কোনো মাদরাসা বন্ধ হয়ে গেছে বলে তার জানা নেই। তবে, বিষয়টি তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, ছাবিনা খাতুনের বাবা ছাইদুর রহমান তার কাছে কথিত মাদরাসার সুপারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




