থানায় অবহেলায় পড়ে থাকা বিষ্ণু মূর্তিটি কি কোটি টাকার?
নিউজ ডেস্ক।। রাজধানীর মুগদা বালুর মাঠ থেকে গত ডিসেম্বরে উদ্ধার হয় কালো পাথরের একটি বিষ্ণু মূর্তি। ১০৬ কেজি ওজনের মূর্তিটি মূল্যবান কষ্টিপাথরের বলে মনে করছে পুলিশ। যদি তা হয় তবে মূর্তিটির মূল্য প্রায় কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাবে মূর্তিটি এখনো অবহেলায় পড়ে আছে মুগদা থানায়। পুলিশের দাবি, আদালতের নির্দেশে তারা মূর্তিটি পরীক্ষার জন্য প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অধিদপ্তর এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশই তাদের কাছে এখনো মূর্তিটি হস্তান্তর করছে না। মূর্তিটি হস্তান্তর করা হলে এটি পরীক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১০ ডিসেম্বর বিকালে মুগদার পূর্ব মানিক নগর বালুর মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার ব্যাপারে মুগদা থানা পুলিশ একটি জিডি করে। তবে মূর্তিটি আদৌ কষ্টিপাথরের কিনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে তা যাচাই করতে ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম আদালতে ১১ ডিসেম্বর আবেদনও করে তারা। ১৭ ডিসেম্বর আদালত মূর্তিটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্টদের। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদেশের অনুলিপি পাঠানো হয় প্রত্নত্বত্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মুগদা থানার ওসির কাছে। কিন্তু আদালতের ওই নির্দেশের পর এক মাস ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ও প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঠেলাঠেলিতে মূর্তিটি এখনো পরীক্ষার অভাবে পড়ে আছে থানায়।
জিডির তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইমদাদুল হক বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে গত ১০ ডিসেম্বর বিকাল ৪টার দিকে পূর্ব মানিক নগর বালুর মাঠের ৭৮৬ নম্বর প্লট থেকে কালো রঙের পাথরে খোদাই করা বিষ্ণু মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। মূর্তিটি দৈর্ঘ্যে ৪২ ইঞ্চি ও প্রস্থে ২২ ইঞ্চি। ধারণা করা হচ্ছে, মূর্তিটি মূল্যবান কষ্টিপাথরের। নিয়ম অনুসারে মূর্তিটি জিডি মূলে জব্দ করে আদালতকে অবগত করা হয়। আদালত এটি আদৌ কষ্টিপাথরের কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয় পুলিশ ও প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গত ২০ ডিসেম্বর প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত মূর্তিটি পরীক্ষার কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রতœসম্পদ ও সংরক্ষণ) মো. আমিরুজ্জামান বলেন, মুগদা থেকে উদ্ধার হওয়া বিষ্ণমূর্তিটি সম্পর্কে আমরা অবগত। এটি যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়েও আদালতের আদেশনামা পেয়েছি। কিন্তু পুলিশ মূর্তিটি আমাদের কাছে হস্তান্তর না করায় অমূল্য ওই সম্পদটি পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুসারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যে সংস্থা এ ধরনের পুরার্কীর্তি উদ্ধার করে তারাই পূর্ণ নিরাপত্তা দিয়ে সেটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করে। অধিদপ্তরে এলে সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতœতত্ত্ব শনাক্তকরণ মিটিংয়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়। এর পর একটি কমিটি গঠন করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ওই কমিটি পুরাকীর্তির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়। ওই বিষ্ণু মূর্তিটি হস্তান্তরের জন্য গত বৃহস্পতিবার মুগদা থানার ওসির সঙ্গে কথা হয়েছে। দ্রুত তিনি মূর্তিটি প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি হলে তা সংরক্ষণাগারে পাঠানো হবে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পূর্ব মানিক নগর বালুর মাঠ থেকে ওই বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার হয় জুয়েল সরদার নামে স্থানীয় এক ডিশ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। জুয়েল জানান, ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে মাটি খনন করে পূর্ব মানিক নগরের ওই বালুর মাঠ সংলগ্ন জলাশয় ভরাটের কাজ চলছে দীর্ঘদিন ধরে। গত ৯ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে বালুর মাঠের পাশে গিয়ে পাথরের মূর্তিসদৃশ বড় একটি বস্তু দেখতে পান তিনি। পরে স্থানীয়দের ডেকে এনে তিনি মূর্তিটি উদ্ধার করেন। বিষয়টি পুলিশকে জানালে পরদিন তারা সেটি থানায় নিয়ে যায়। মাটির গাড়িতে করে মূর্তিটি ওই মাঠে এসেছে বলে ধারণা তার।




