256491

দেশ স্বাস্থ্যনাশা আবহাওয়ার কবলে!

নিউজ ডেস্ক।। সিজারিয়ান বর্ষপঞ্জী অনুযায়ী জানুয়ারির মধ্য ভাগ থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাঘ মাস। প্রবাদ আছে- ‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়’; কিন্তু এবার দেখা গেছে মধ্য জানুয়ারির পর অর্থাৎ মাঘের শুরুতে ঢাকার আবহাওয়া যথেষ্ট গরম। তারপর হঠাৎই জানুয়ারির শেষ ভাগে শীত জেঁকে বসে। মাঘেও প্রকৃতির আচরণ বোঝা মুশকিল। কখনো বসন্তের গরম-গরম ভাব, আবার কখনো হাড় কাঁপানো হিমঠা-ার আঘাত। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০০৭ সালের পর বিশ্বের আবহাওয়া দিন-দিন বৈরী হবে- পরিবেশ বিজ্ঞানীরা এমন আভাস দিয়েছেন অনেক আগেই। বাংলাদেশে শীতকালে চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া দেখা গেল। অর্থাৎ শীতকালে গরমের সঙ্গে পরিচয় ঘটল দেশবাসীর। এমন অস্বস্তিকর অবস্থাকে চিকিৎসকরা বলছেন স্বাস্থ্যনাশা আবহাওয়া।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ৩ মাস বৃষ্টি, শীত, কালবৈশাখী ঝড় ও গরমের অনুভব করবে দেশবাসী। এ মাসেই দেশের কোথাও শীত, কোথাও গরম অনুভব করেছে মানুষ।

সারাবছরই প্রকৃতির এমন অনিশ্চিত আচরণ অব্যাহত থাকবে। আবহাওয়ার ক্ষণে ক্ষণে এমন পরিবর্তনের চরমভাবাপন্ন পরিবেশে অভ্যস্ত নয় দেশের মানুষ। ফলে দেশের মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. শহিদুল্লাহ। তিনি বলেন, অস্বাভাবিক কোনো কিছু ক্ষতিকর, মানবদেহে তার প্রভাবও পড়ে সরাসরি। দিনে গরম, রাতে ঠা-া পড়লে ভাইরাসজনিত নানা রোগের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আবহাওয়ার এমন ধরন অব্যাহত থাকলে তা হবে স্বাস্থ্যনাশা।

গতকাল মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও বরিশাল জেলার ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেলেও রাজধানীবাসী ওই শীতের তীব্রতা অনুভব করেনি। ওইসব জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান পরিবেশবিদ মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এমন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে প্রকৃতি। সামনে আরও ভয়াবহ দিন আসতে পারে, যদি না আমরা এখনই সতর্ক হই।
কেন এই বৈরী আবহাওয়া? জানতে চাইলে সার্ক আবহাওয়া কেন্দ্রের সাবেক আবহাওয়াবিদ জানান, এক দেশের আবহাওয়া বৈরী আচরণ করলে তার প্রভাব অন্য দেশেও পরোক্ষভাবে পড়ে। বৈশ্বিক কারণে ভবিষ্যতে আবহাওয়া আরও বৈরী হয়ে উঠতে পারে। তাই বাংলাদেশকে এই বৈরী পরিবেশ উপযোগী কৃষি ও অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের জলবায়ুবিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে সবচেয়ে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হিসেবে অভিহিত করে বলা হয়, আগামী শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে আবহাওয়ার যতগুলো নেতিবাচক রূপ রয়েছে, তার সবকটির প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে। জার্মানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পোস্টডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছেÑ বিশ্বে কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বর্তমানে যে হারে বাড়ছে, তা যদি অব্যাহত থাকে, তা হলে ২০৯০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়বে, যার পরিণতিতে বাংলাদেশের বিশাল উপকূলীয় অঞ্চল ঘন-ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হবে।

পরিবেশবিদ ও বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক মো. আসাদ উল্লাহ খানের মতে, বাংলাদেশের উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা। এটি হচ্ছে ‘এল-নিনো এবং ‘লা-নিনার’ প্রভাবে। মেক্সিকো উপকূল থেকে চরম অস্থির উপসাগরীয় উষ্ণ স্রোত বাতাসে তাড়িত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগরকে উষ্ণ স্রোতের প্রভাবে উত্তাল করে তুলেছে। এ উষ্ণ স্রোত এশিয়া অঞ্চলের ওপর বৈরী প্রভাব ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ad

পাঠকের মতামত