এবাদতের তোপে শেষটা রাঙিয়ে গেল সিলেটের
আজই গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ ছিল চিটাগং ভাইকিংসের। ইতিমধ্যেই সেরা চার নিশ্চিত করেছে তারা। কিন্তু বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া সিলেট সিক্সার্সের কাছে হেরে গ্রুপ পর্বটা আশানুরূপভাবে শেষ হলো না মুশফিকুর রহিমের দলের। আজ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ৯ বল হাতে রেখেই চিটাগংকে ২৯ রানে হারিয়েছে অলক কাপালির দল। ৪ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে সিলেটের এই জয়ে বড় ভূমিকা পেসার এবাদতের।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় নেমে ৩ রানে ২ উইকেট হারায় চিটাগং ভাইকিংস। ৯ ম্যাচ পর দলে সুযোগ পাওয়া আশরাফুল তাসকিনের বলে ‘ডাক’ মারেন। অপর ওপেনার ক্যামেরন ডেলপোর্ট (২) এবাদত হোসেনের বলে পার্নেলের হাতে ধরা পড়েন। ইয়াসির আলীকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস মেরামতে মনযোগ দেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৪২ রানের এই জুটি ভাঙেন অলক কাপালি। ২৭ বলে ২৭ রান করা ইয়াসির আলীর ক্যাচ সীমানার ওপর থেকে ‘সুপারম্যান স্টাইলে’ তালুবন্দি করেন জেসন রয়। ১৫ বলণে ২৫ রানে বড় স্কোরের ইঙ্গিত দেওয়া মোসাদ্দেক শিকার হন ইবাদতের।
চিটাগং ভাইকিংস ৫ম উইকেট হারায় অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিদায়ে। ৩২ বলে ৩ চার ৩ ছক্কায় ৪৮ রান করা মুশফিক রান-আউট হন সিকান্দার রাজার সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে। সেই সিকান্দার রাজাও (৫) এবাতের বলে বদলি মেহেদী হাসানের হাতে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন। এই পেসারের তৃতীয় শিকার দাসুন শানাকা (৭)। পরের বলেই বিলজোয়েনের (১৫) ক্যাচ ছাড়েন সেই মেহেদী হাসান। অবশ্য চতুর্থ বলেই এই প্রোটিয়াকে বোল্ড করে চতুর্থ শিকার ধরেন এবাদত। ১৯তম ওভারের দুই বলে দুই উইকেট তুলে নিয়ে সিলেটকে ২৯ রানের জয় এনে দেন পারনেল।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট ১৬৫ রান তোলে সিলেট সিক্সার্স। দলীয় ১৪ রানে প্রোটিয়া বোলার হারদাস বিলজোয়েনের বলে ইয়াসিরের তালুবন্দি হন আফিফ হোসেন (১)। তিন নম্বরে নামা জেসন রয়কেও (১১) ইয়াসিরের তালুবন্দি হেন এই পেসার। এরপর ৬৫ রানের দারুণ জুটি গড়েন অপর ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার এবং সাব্বির রহমান। ২৫ বলে ২ চার ২ ছক্কায় ৩২ রান করা সাব্বির নাঈম হাসানকে ছক্কা মারতে গিয়ে একেবারে সীমানায় ধরা পড়েন সিকান্দার রাজার হাতে।
৩৮ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্যারিবীয় তারকা ফ্লেচার। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ নওয়াজ। বিলজোয়েনের তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে খেলেন ১৯ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৩৪ রানের ক্যামিও। এই প্রোটিয়া পেসারের চতুর্থ শিকার ৫৩ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় ৬৬ রান করা আন্দ্রে ফ্লেচার। দারুণ ক্যাচ নেন ইয়াসির আলী। শেষ ওভারে জাকের আলীর (৮*) ক্যাচ ছাড়েন আশরাফুল। নির্ধারিত ২০ ওভারে সিক্সার্সদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৬৫ রান।
উল্লেখ্য, দিনের প্রথম ম্যাচে আজ ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ১ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় পেয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এতে ৫ নম্বরে নেমে যাওয়া ঢাকার শেষ চারে ওঠা নিয়ে আশংকা বাড়ল। শেষ ম্যাচে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে তাদের জিততেই হবে। অন্যদিকে এই জয়ে রংপুর রাইডার্সকে টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ইমরুল কায়েসের কুমিল্লা।




