মনোনয়ন দৌড়ে যে কারণে এগিয়ে লীনা
সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ পদে প্রার্থী বাছাইয়ে ক্ষমতাসীন দলে চলছে শেষ মুহূর্তের তৎপরতা। দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অপেক্ষাকৃত তরুণ নেত্রীরা দলের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্রার্থীদের অতীত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ-তিতিক্ষাসহ নেতৃত্বের যোগ্যতা ও দক্ষতা বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন, ত্যাগী ও রাজপথে সক্রিয়রাই অগ্রাধিকার পাবেন।আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্রমতে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ গুছিয়ে এনেছেন। একাধিক জরিপ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জনপ্রিয় আর ত্যাগী নেত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে এবার। ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও নানা পেশার নারী সদস্যরা। এর মধ্যে অনেকেই আগে থেকেই তাদের কর্ম তৎপরতার কারণে আলোচিত। তাদের মধ্যে চূড়ান্ত মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক উপকমিটির সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক নির্বাচিত সদস্য এডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লীনা।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলে দিয়েছেন, গত সংসদগুলোতে সংরক্ষিত নারী এমপি পদে যারা নির্বাচিত হয়েছিলেন তারা এবার দলের মনোনয়ন পাবেন না। সেই দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন নতুনরাই। সে হিসেবে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন লীনা। দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দলের জন্য ত্যাগ-পরিশ্রম, সততা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, দুরদর্শীতা, মানুষের প্রতি ভালোবাসার কারণেই নাসরিন সিদ্দিকা লীনা এবার অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের ‘যোগ্যতার মাপকাঠিতে’ একজন সাংসদ হতে যেসব গুণাবলীর দরকার তার সবই আছে লীনার। তিনি বিগত দীর্ঘ সময় নিজেকে আত্মনিয়োগ করে গেলেও দলীয় সভানেত্রীর কাছে কোনদিন কিছুই চাননি। তাই এবার তাকে সুযোগ দেয়ার একটা সময় এসেছে বলে মনে করছেন দলের নীতি-নির্ধারক মহল। কক্সবাজার জেলা শহরের জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এলাকা হাশেমিয়া মাদ্রাসার পাশেই তার পৈত্রিক নিবাস।
লীনা পারিবারিকভাবেই আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত। তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দুল হক মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সংগ্রামী কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শ্বশুর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ কালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নাসরিন সিদ্দিকা লীনার আলোচিত কিছু ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত। অতীতে তিনি পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন। তাছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সিলেবাসে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয় অন্তর্ভুক্তি চেয়ে রিট আবেদন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হত্যা মামলা, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলা পরিচালনায় প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নিজের সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছেন।
শুধু রাজনীতিতে নয়, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত এই গুণী আইনজীবী। জঙ্গিবাদ দমনে সভা, সেমিনার আয়োজন সহ বিভিন্ন সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তিনি পরিচালনা করেন। তাছাড়া গরীব দুঃখীদের পাশে থেকে তাদের সাহায্য সহযোগিতায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন।সার্বিক বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নাসরিন সিদ্দিকা লীনা বলেন, ‘আমি মনে করি সংসদে যাওয়ার জন্য নিজেকে আমি তৈরি করতে পেরেছি। এই দায়িত্ব পালন করার মতো যোগ্যতা আমার আছে। আমি দলের কাছে কোন দিন কিছু চাইনি। ছাত্র রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার পর থেকেই দলের জন্য কাজ করে এসেছি। অতীতেও আমি দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকবো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমার ওপর আস্থা রাখেন তাহলে অবশ্যই আমি তার প্রতিদান দেব। জনগণের সেবার জন্য আমি এবার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে চাই।’




