255117

ধামরাইয়ে অপহরণের পর মনিরকে হত্যার পরও মুক্তিপণ চায় ওরা

নিউজ ডেস্ক।। ঢাকার ধামরাইয়ে অপহরণের চার দিন পর মাটিচাপা দিয়ে রাখা পাঁচ বছরের শিশু মনির হোসেনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে গ্রেফতার দুই অপহরণকারীর স্বীকারোক্তি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরপাড় থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা জানিয়েছে, শিশুটি পূর্বপরিচিত হওয়ায় ধরা পড়ার ভয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এরপর তার পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। নিহত মনির হোসেন আশুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী সোনা মিয়া ওরফে কালা মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার বিকেলে বাড়ির পাশে সালাম মেম্বারের ধানের চাতালে খেলতে যায় মনির। সন্ধ্যা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন স্বজনরা। কোথাও তাকে না পেয়ে পরদিন রোববার ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা সোনা মিয়া। এরপর সোমবার বিকেলে মনিরের বাবার মোবাইলে ফোন করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। কিন্তু কোথায় মুক্তিপণের টাকা দিতে হবে তা তারা জানায়নি। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিক ধামরাই থানা পুলিশকে জানানো হয়। এরপর প্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার রাতেই পুলিশ একই গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মুদি ব্যবসায়ী মাজেদুল ইসলাম ও তার মামাতো ভাই পাশের কুল্লা গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে মানছুর রহমানকে গ্রেফতার করে। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদের পর তারা স্বীকার করে প্রতিবেশী মিশু মিয়ার ছেলে রাব্বিসহ তারা তিনজন মিলে শিশু মনির হোসেনকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করতে মাটিচাপা দেওয়া হয়। গতকাল সকালে গ্রেফতার দু’জনকে নিয়ে তাদের দিয়েই আশুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরপাড় থেকে মাটি খুঁড়ে শিশু মনিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গতকাল দুপুরে ধামরাই থানা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সাইদুর রহমান বলেন, এলাকার বিভিন্নজনের কাছে মাজেদুল, মানছুর ও রাব্বির অনেক টাকা দেনা ছিল। সেই টাকা পরিশোধের জন্যই শিশু মনির হোসেনকে অপহরণের পরিকল্পনা করে এক মাস আগে। শনিবার রাতে তাকে অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। কিন্তু শিশুটি তাদের পূর্বপরিচিত হওয়ায় ধরা পড়ার ভয়ে তার মুখে টেপ পেঁচিয়ে ও গলাটিপে হত্যা করে। পরে লাশ বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে বাঁশঝাড়ে রেখে দেয়। পরদিন রোববার রাতে শিশুটির লাশ বাড়ি থেকে দুইশ’ গজ দূরে আশুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পুকুরপাড়ে মাটিচাপা দিয়ে রাখে। এরপর তারা মনিরের বাবার মোবাইল ফোনে আবারও ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় দু’জনকে গ্রেফতার করে। ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনায় গতকাল নিহত মনিরের বাবা সোনা মিয়া বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর সঙ্গে জড়িত রাব্বিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে হত্যার পেছনে আর কোনো কারণ রয়েছে কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উৎস: সমকাল।

ad

পাঠকের মতামত