255310

‘আমি নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম, মুখ দিয়ে কথা বের হয় না’

একাদশ জাতীয় সংসদ দখলদারিত্বের সংসদ অভিহিত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আবারও পুনঃনির্বাচন দাবি করেছে বিএনপি। আজ বুধবার বিকেলে ‘ভুয়া ভোটের সংসদের প্রতিবাদে মানববন্ধন’ শিরোনামে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই দাবি জানায় দলটির নেতারা।মানববন্ধনে নির্বাচনের ফলাফলে বিস্ময় প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘আমরা এই নির্বাচনে হতবাক হয়েছি, অবাক হয়েছি। আমি তো নির্বাক হয়ে গিয়েছিলাম, মুখ দিয়ে কথা বের হয় না। আমাদের কারোরই বের হওয়ার কথা নয়। এরকম আমরা কোনোদিন প্রত্যাশা করি নাই, যেটা এবার আমরা দেখলাম।’

এ সময় একাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের ঘোষণা দেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যেটা হয়ে গেল, সেই নির্বাচনের বিবরণী আমরা দিতে চাই এবং দেব আমরা। এর ওপরে আমরা তথ্যভিত্তিক একটি শ্বেতপত্র বের করব। তাতে আপনারা দেখবেন এই যে নির্বাচনটি হয়েছে তাতে মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে এবং পাঁচ থেকে সাত শতাংশ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পেরেছে। বাকি কাউকে ভোটকেন্দ্রে যেতে দেওয়া হয় নাই। এই নির্বাচনটা করেছে প্রশাসন, পুলিশ ও সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন। এই নির্বাচনে জনগণের কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

মানববন্ধনে আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘১৯৭৫ সালে তারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠা করেছিল। ঠিক একই কায়দায় জনগণের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়ে, গণতন্ত্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ভেঙে দিয়ে, রাষ্ট্রীয় যন্ত্রকে ব্যবহার করে, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করে আরেকবার তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করবার জন্য এই দখলদারিত্বের একটা সংসদ ও সরকার গঠন করেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের সাথে সাথে বলেছি, এই নির্বাচনের ফলাফল আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি এবং তখন আমরা বলেছিলাম পুনরায় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের যে রায় সেই রায়ে সরকার গঠন করতে হবে। আজকেও আবার আমরা সেই দাবির পুনরাবৃত্তি করছি। আমরা বলতে চাই, অবিলম্বে এই নির্বাচন বাতিল করে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের মধ্য দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠান করতে হবে এবং জনগণ যাতে রায় দিতে পারে নির্বিঘ্নে, অবাধে তার ব্যবস্থা করতে হবে।’

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখেই খালেদা জিয়াকে একবছর আগেই মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে গ্রেপ্তার ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় বিদেশে নির্বাসিত করে রেখেছে।’ অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানান তিনি।নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়ে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। এজন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা ২০১৪ সালের নির্বাচনে যাই নাই। অনেকে সেসময়ে অভিযোগ করেছেন কেন আমরা সেই নির্বাচনে যাই নাই। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রমাণিত হয়েছে ২০১৪ সালের নির্বাচনে যে যাই নাই-এটা সঠিক ছিল এবং শেখ হাসিনার অধীনে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না- এটা আজকে প্রমাণিত হয়েছে। সারা বিশ্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে এটি কোনো নির্বাচন হয় নাই।’

মানববন্ধনে আবদুল মঈন খান বলেন, ‘একাদশ সংসদে আজকে যারা প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা জনগণের প্রতিনিধি নয়। তারা হচ্ছেন ভুয়া ভোটের প্রতিনিধি। এবার প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় শুধু রিগিং নয়, তাদের সহায়তায় ভোট সন্ত্রাস হয়েছে।’এ সময় ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমা রহমান, আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধন পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ।

ad

পাঠকের মতামত