স্কুলছাত্রকে অপহরন করে টাকা দাবি, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মী গ্রেপ্তার
নিউজ ডেস্ক।। বগুড়া জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির এক ছাত্রকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকর্মীকে থানায় ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শাহরিয়ার ইসলাম ইমন নামের ওই ছাত্রকে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড় থেকে অপহরণ করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অপহরণের ঘণ্টা দুয়েক পর ইমনকে পুলিশ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ স্থানীয় একটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে আটক করে। তাদের দেওয়া তথ্যে আরও দুজনকে থানায় ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।পরে তদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- বগুড়া পৌরসভার নয় নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সভাপতি রায়হান শেখ (৪০) ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ কর্মী নাসিউল করিম নীরব (১৮)। বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুজ্জামান মিয়া জানান, শহরের জলেশ্বরীতলার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের ছেলে ইমন বগুড়া জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে সে স্কুল থেকে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় শহরের ইয়াকুবিয়া স্কুল মোড় থেকে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে এবং কৌশলে ইমনকে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে নিয়ে যান। পরে দুর্বৃত্তরা মুঠোফোনে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা দাবি করেন। বিষয়টি জানার পর ইমনের পরিবারের সদস্যরা সদর থানায় তা অবহিত করেন।পুলিশ তৎপর হলে তারা ইমনকে ছেড়ে দেন। বিকেল ৩টার দিকে তাকে শহরের সুত্রাপুর থেকে উদ্ধার করা হয়।
এরপর পুলিশ সন্ধ্যায় শহরের রহমাননগর এলাকায় শহীদ আবদুল জোব্বার ক্লাবে অভিযান চালায়। সেখান থেকে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিমুল বারী নাসিমসহ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ নাসিমের মাধ্যমে অপহরণে জড়িত রায়হান ও নীরবকে থানায় ডেকে এনে গ্রেপ্তার করে। পরে নাসিমদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
কামরুজ্জামান মিয়া আরও জানান, এ ঘটনায় গতকাল রাতেই ইমনের মা মনিকা ইসলাম বাদী হয়ে সদর থানায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। আজ বুধবার দুপুরে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাপ্পী জানান, তার সংগঠনের ওই দুই নেতাকর্মী অপহরণে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠন থেকে তাদের বহিষ্কার করা হবে। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




