গ্যাস্ট্রিক-আলসারের ব্যথায় করণীয়
ডেস্ক রিপোর্ট।। যে কোনো পেটের অসুখে পেটব্যথা গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ। তবে পেপটিক-আলসার অতিসাধারণ অসুখ। প্রবাদে আছে ‘পেট আছে যার, ব্যথা আছে তার’। খাওয়া-দাওয়ায় সামান্য অনিয়ম হলেই পেটব্যথা হওয়া মোটেও অস্বাভাবিক নয়। আলসার হলে তো কথাই নেই। ব্যথা যেন আর কমতেই চায় না। বিপত্তি বাধে সেখানেই।
আকলিমা আক্তারের (ছদ্মনাম) কথাই ধরা যাক। বয়স ৩৪ বছর। সারাক্ষণ মনমরা হয়ে থাকে। খাওয়া-দাওয়ায় ভীষণ অনীহা। অল্প খেলেই পেট ভরে ওঠে। সারাক্ষণ পেট ভরা থাকে। বুক ও গলা জ্বলে, টক পানি মুখে চলে আসে। সারাক্ষণ বমি বমি ভাব তার। ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন করেছেন। কাজ হয়নি। ফলে চিকিৎসার প্রতি এক ধরনের অনাস্থা এসেছে। মনের কোণে ভয় রোগটি ক্যানসার পর্যায়ে চলে গেল কিনা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলেন তিনি। চিকিৎসক বিভিন্ন প্রশ্ন করলেন। শারীরিক কিছু পরীক্ষা করালেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষাও করলেন। এন্ডোসকপি করলেন। এতসব করার পর নিশ্চিত হলেন রোগটি আসলে গ্যাস্ট্রিক-আলসার। রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসাও হলো। রোগী এখন সম্পূর্ণ রোগমুক্ত।
চিকিৎসক তাকে কিছু পরামর্শ দিলেন, যা তিনি অনুসরণ করে যাচ্ছেন। ফল সন্তোষজনক। ভদ্রমহিলা গ্যাস্ট্র্রিক-আলসার বা গ্যাস্ট্রাইটিস মনে করে দীর্ঘদিন সাধারণ ওষুধ সেবন করেছেন। কখনো লক্ষণ সামান্য উপশম হয়েছে, কখনো হয়নি। ধরেই নিয়েছিলেন, এ রোগ আর ভালো হবে না। ক্যানসারভীতি পেয়ে বসেছিল তাকে। গ্যাস্ট্রিক-আলসারের কারণ একটি ব্যাকটেরিয়া, যা পানিবাহিত। যেখানে সেখানে যেনতেন পানি পান করা তাই উচিত নয়। পানি ফুটিয়ে পান করলে এ রোগ হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এ ব্যাকটেরিয়াটি খুব ক্ষতি করে। গ্যাস্ট্রিক-আলসার ক্যানসার পর্যন্ত নিয়ে যায়। সাধারণ মানের যত ওষুধ বাজারে আছে, তা এ রোগ নিরাময়ের জন্য উপযোগী নয়। এটি একটি সুনির্দিষ্ট জীবাণু। তাই সুনির্দিষ্ট ওষুধ প্রয়োগ করলেই কেবল সুফল পাওয়া যায়। লেখক : অধ্যাপক, হেপাটোবিলিয়ারি প্যানক্রিয়েটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্লান্ট, সার্জারি বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়। উৎস: দৈনিক আমাদের সময়।




