এবার আলটিমেটাম দিলেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী
শরীয়তপুরের নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে নেয়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আলটিমেটাম দিয়েছেন পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।মঙ্গলবার সচিবালয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে এই আলটিমেটাম দেয়া হয়। বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত রুদ্ধদার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।এ সময় বলা হয়, ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অন্তত ১০টি বার্জ প্রকল্প এলাকায় সচল করতে হবে। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬টি বার্জ সচল রাখা হয়েছে। আরও ৪টি বার্জ এনে ডাম্পিং কাজের গতি বাড়ানো হবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার ‘নড়িয়া ও জাজিরায় পদ্মার ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্প, ‘অনভিজ্ঞ ঠিকাদারের হাতে ১১শ’ কোটি টাকার কাজ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসেন পাউবোর শীর্ষ কর্মকর্তাসহ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম নিজ দফতরে তলব করেন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারসহ পাউবো’র কর্মকর্তাদের।বৈঠক শেষে উপমন্ত্রী বলেন, ৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ১০টি বার্জ (অধিক পরিমাণে বালির বস্তা পরিবহনে নিয়োজিত লঞ্চ টার্মিনালের ন্যায় বড় পল্টুন) প্রকল্প এলাকায় সচল রাখতে হবে। অন্যথায় বিকল্প চিন্তা করবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নদীর ড্রেজিং কাজে ব্যবহৃত উন্নতমানের ড্রেজারও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প এলাকায় আনতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, নদী ভাঙ্গনের শিকার মানুষ কী পরিমাণ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে তা কেবল ক্ষতিগ্রস্তরাই উপলব্দি করতে পারছে। তাই এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করে দেয়ায় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।তিনি বলেন, শরীয়তপুরসহ অন্য যেসব এলাকায় পাউবোর কাজ চলছে সবগুলো ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একই নির্দেশ কার্যকর করতে বলা হয়েছে। এর কোনো রকম ব্যত্যয় ঘটলে যা সিদ্ধান্ত নেয়ার মন্ত্রণালয় তাই নিবে। আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে চাই।
উপমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সবচেয়ে দুর্বিসহ অবস্থায় আছেন নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষ। সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এসব অসহায় মানুষের পাশে থাকতে চায়। যেখানে যা কিছু প্রয়োজন তাই করা হবে। মানুষের পাশে থেকে সব দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে।তিনি বলেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী কাজ না করলে এর দায়-দায়িত্ব তাদেরকে বহন করতে হবে। এক চুল পরিমাণ ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
বৈঠকে নড়িয়া ও জাজিরায় পদ্মার ভাঙ্গন প্রতিরোধ প্রকল্পের সাব-কন্ট্রাকটর বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান মোর্শেদ আলম এমপি, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পচিালক কমডোর মো. আনিসুর রহমান মোল্লাহ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজি মাহফুজুর রহমান, চীফ মনিটরিং কাজী তোফায়েল হোসেন, ফরিদপুরের চীফ ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম প্রমুখ।এক প্রশ্নের জবাবে উপমন্ত্রী বলেন, হাওর এলাকার ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোনোরকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আগামী সপ্তাহেই সুনামগঞ্জ যাওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।




