253710

ঘরোয়া টিপস পাইলসের ব্যাথা থেকে মুক্তির

ডেস্ক রিপোর্ট।। পাইলস বা অর্শ অত্যন্ত যন্ত্রণা দায়ক একটি রোগ| সময় থাকতে এর চিকিত্সা না হলে অনেক সময় ক্যান্সার হয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা যেতে পারে| সাধারণত শ্রোণীচক্রের নিচে ও পায়ুপথের বাইরের বা ভেতরের অংশে রক্তনালীতে জ্বালা বা তা ফুলে ওঠাকে অর্শ, পাইলস বা হেমারয়েডস বলা হয়ে থাকে| পাইলস হলে সাধারণত পায়ুপথে রক্তক্ষরণ হয়ে থাকে তবে তা জটিল আকার ধারণ করলে পায়ুপথে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরী হয়| তাই সময় থাকতেই সচেতন হন| আর আপনাদের এই সচেতনতা বাড়িয়ে তোলার জন্য আজ থাকছে কতগুলি ঘরোয়া টিপস যার দ্বারা আপনি এই রোগ বা ব্যথা এড়াতে পারেন| হেল্প

অর্শ বা পাইলস হওয়ার কারণ গুলি কি কি? ।। সাধারণত দীর্ঘ সময় ধরে কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া এই রোগের একটি মূল কারণ| এছাড়া শরীরের ওজন বৃদ্ধি, শাকসব্জি ও জল কম খাওয়া, লিভার সিরোসিস, অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভের ব্যবহার অনেক সময় এই রোগের কারণ হয়ে দাড়ায়| তবে পারিবারিক সূত্রেও এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে থাকে| সাধারনত বৃদ্ধ বয়সে এই রোগের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে দাড়ায়|

রোগের লক্ষণ।। অর্শ যদি মলদ্বারের ভেতরে হয়ে থাকে তাহলে মলত্যাগ করার সময় রক্তপাত হয়| এছাড়া মলদ্বারে যন্ত্রণা, চুলকানি বা মলদ্বারের ফোলা অংশ বাইরে বেরিয়ে আসা এই রোগের লক্ষণ হতে পারে| মলদ্বারের বাইরে অর্শ হলে রক্তপাত ও যন্ত্রণা এছাড়া মলদ্বারের বাইরের অংশ ফুলে যাওয়া এই রোগের লক্ষণ হতে পারে| এবার জেনে নেওয়া যাক এই রোগের ব্যথার উপশম করার কিছু ঘরোয়া উপায়|

১.বরফ।। বরফ এই রোগে ব্যথার উপশমে অত্যন্ত আরাম দায়ক একটি উপাদান| বরফের ব্যবহার রক্তপাত বন্ধ করে, ফুলে যাওয়া কে কম করে এবং খুব তাড়াতাড়ি আরাম দেয়| ব্যবহার প্রণালী ।। আইস প্যাক বা বরফের কয়েকটি টুকরো একটি কাপড়ে জড়িয়ে আপনার ফুলে যাওয়া অংশটিতে ১০ মিনিট ধরে থাকুন| এই পদ্ধতিতে আপনি দিনে বেশ কয়েক বার বরফের সেক দিলে খুব তাড়াতাড়ি আরাম পেয়ে যাবেন|

২. অ্যালোভেরা ।। অ্যালোভেরা অর্শ বা পাইলসের ব্যথা উপশমকারী সবথেকে কার্যকরী উপাদান| এর অ্যান্টিইন্ফ্লামেটেরি ও থেরাপেউটিক উপাদান গুলি খুব তাড়াতাড়ি যন্ত্রণা বা ইরিটেশন বা চুলকানির উপশম করে| এই উপাদান ইন্টারনাল ও এক্সটারনাল পাইলসের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে| পদ্ধতি ।। এক্সটারনাল বা মলদ্বারের বাইরে যদি পাইলস হয়ে থাকে তাহলে অ্যালোভেরা জেল মলদ্বারের বাইরের ব্যথা বা যন্ত্রণা হওয়া অংশে হালকা ভবে ম্যাসাজ করুন| এতে আপনার যন্ত্রণা বা জ্বালাপোড়া কম হয়ে যাবে| ইন্টারনাল বা মলদ্বারের ভেতরে পাইলস হলে অ্যালোভেরা কে পাতলা লম্বা অংশে কেটে একটি কন্টেনারে রেখে ফ্রিজে রেখে দিন কিছুক্ষণ| ঠান্ডা অ্যালোভেরা আপনার যন্ত্রণার অংশে প্রয়োগ করুন| এতে আপনার যন্ত্রণার উপশম হবে|

৩. আলমন্ড অয়েল ।। আলমন্ড অয়েল অর্শ বা পাইলসের যন্ত্রণা বা জ্বালা উপশমে অত্যন্ত উপকারী| এই তেল সাধারণত মলদ্বারের বাইরে পাইলসের ব্যথা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়| পদ্ধতি ।। কটন বল বা তুলো আলমন্ড অয়েলে ভিজিয়ে মলদ্বারে ধীরে ধীরে লাগান| এতে পাইলসের ফলে মলদ্বার ফুলে উঠলে তা কমে যায় এবং ব্যথা ও চুলকানির জ্বালা কমে যায়| দিনে ৩-৪ বার এই পদ্ধতিতে আলমন্ড অয়েল প্রয়োগ করলে আরাম পাওয়া যেতে পারে|

৪. ক্যাস্টর অয়েল।। ক্যাস্টর অয়েল অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ফাংগাল, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটেরি উপাদান পাইলস উপশমে এবং এর থেকে হওয়া ব্যথা ও জ্বালা উপশম করতে সাহায্য করে| পদ্ধতি ।। দুধ ও ক্যাস্টর অয়েল আপনার মলদ্বারে প্রয়োগ করলে আপনি আরাম পেতে পারেন|

৫. ইপ্সম লবন ।। ইপ্সম লবনের ব্যবহার অর্শ বা পাইলসের ব্যাথার উপশমে কার্যকরী| পদ্ধতি ।। ২ চামচ ইপ্সম লবন ও ২ চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে একটি সাদা পরিষ্কার গজ প্যাডে লাগিয়ে আপনার ব্যথা ও যন্ত্রণার অংশে ১০ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখুন| প্রতি ৪ বা ৬ ঘন্টা অন্তর প্রয়োগ করুন| এতে আপনি জ্বালা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন|

৬. ব্ল্যাক টি ব্যাগ ।। চা পাতায় বর্তমান টান্নিক অ্যাসিড পাইলসের ফলে মলদ্বার ফুলে উঠলে বা যন্ত্রণা হলে তা কমাতে সাহায্য করে| পদ্ধতি।। গরম জলে টি ব্যাগ ভিজিয়ে নিন| একটু ঠান্ডা হলে উষ্ণ টি ব্যাগ আপনার ব্যথা অংশে প্রয়োগ করুন ১০ মিনিট| দিনে ২ থেকে ৩ বার এর প্রয়োগ আপনার ব্যথা কমাতে সাহায্য করে| এছাড়া আপনার ডায়েটের বিশেষ খেয়াল রাখুন| প্রচুর পরিমান জল খান| রাতে শোবার আগে পরিমিত খাবার খান| সবুজ ও আঁশযুক্ত শাকসব্জি খান| এতে আপনার পাইলস বা অর্শ হবার সম্ভাবনা কম করে| আলোচ্য সব গুলি উপাদান আপনার ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে| তবে অর্শ বা পাইলস হলে কখনই অবহেলা করা উচিত নয় কারণ অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি আপনার কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তোলে| তাই এই ঘরোয়া উপকরণ গুলির সাথে সাথে অতি অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি|

ad

পাঠকের মতামত