253948

উপজেলায় নৌকা প্রতীক পাচ্ছেন না শরিকরা

আগামী মার্চেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পঞ্চম উপজেলা ‍নির্বাচন। তবে এ নির্বাচনে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে আরো গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমুলক করতে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী সূত্রের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, পঞ্চম উপজেলা নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। নির্বাচনে জোটবদ্ধ না হয়ে এককভাবে নির্বাচন করার ছকে হাটছেন ক্ষমতাসীনরা। বিএনপি জোট নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। তবে বিএনপি নির্বাচনে আসলে নির্বাচনী ছক পরিবর্তন হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় নৌকা প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে এখন থেকেই সম্ভব্য প্রার্থীদের দলীয় কর্মকাণ্ড ও গতিবিধি নজরদারীতে রাখা হচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মত প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্থার জরিপকে প্রাধান্য দেয়া হবে।এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, জোটবদ্ধভাবে উপজেলা নির্বাচন করার কোন নীতিগত সিদ্ধান্ত নেই। আমরা চাই সারাদেশ থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনে আসুক। এটাই তো গণতন্ত্রের শিল্প। একটি গণতান্ত্রিক অসম্প্রদায়িক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এটিই আমাদের প্রত্যাশা। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ত্যাগী, পরীক্ষিত, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান নেতাকর্মীরা যেন অবিচারের শিকার না হন সেদিকে আমাদের বিশেষ নজর থাকবে।

আওয়ামী লীগের এ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরো জানান, জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তো শুনছিলাম বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। তারপর তারা নির্বাচনে এসেছে। কয়েকটি আসনে বিজয়ীও হয়েছে। উপজেলায় আসবে কি, আসবে না সেজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তারপর আমরা বুঝেশুনে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের স্বাক্ষরিত চিঠিটি ডাকযোগে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ থেকে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। এরপর আগামী মার্চে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিতব্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও একইভাবে দল মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা করে একক বা সর্বোচ্চ তিনজন প্রার্থীর নাম জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে পাঠাতে বলা বলেছে। জেলা আওয়ামী লীগকে সংশ্লিষ্ট জেলার সব উপজেলার প্রার্থীর তালিকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ডাকযোগে বা সরাসরি কোনো মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরীক দলগুলো আলাদা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে কয়েকটি দল নির্বাচনের প্রাথমিক প্রস্তুতি নেয়ার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। যদিও শরীকদের দৃশ্যমান কোন কর্মকাণ্ডই এখনো চোখে পড়েনি।এ বিষয়ে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, উপজেলা নির্বাচন জোটগতভাবে অংশ নেওয়া হবে না। দলগতভাবেই অংশগ্রহণ করা হবে। আমরা দলীয়ভাবেই প্রার্থী দেবো। সেভাবে আমরা প্রস্তুতিও শুরু করবো।

এ বিষয়ে ১৪ দলের শরিক বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে এখনো আমরা দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি নি। তবে দলীয়ভাবে প্রার্থী দেয়া হবে। আসন্ন উপজেলা নির্বাচন জোটবদ্ধভাবে হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। সেবার মোট ছয় দফায় ভোট গ্রহণ করা হয়। এটি ছিল দেশের চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন। দেশে ১৯৮৫ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ওই বছর ৪৬০টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। ১৯৯০ সালে দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে তৃতীয়বারের মতো উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই বছর ৪৭৫টি উপজেলায় এই নির্বাচন হয়। উপজেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।

ad

পাঠকের মতামত