মালয়েশিয়ার নতুন রাজা সুলতান আব্দুল্লাহ
নিউজ ডেস্ক।। সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদ সিংহাসন ত্যাগ করার পর মালয়েশিয়ার নতুন রাজা নির্বাচিত হয়েছেন দেশটির পাহাং রাজ্যের সুলতান আব্দুল্লাহ। যিনি মাত্র কয়েকদিন আগে এই অঙ্গরাজ্যের সুলতান হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। মালয়েশিয়ার রাজার আনুষ্ঠানিক পদবি হলো ‘ইয়াং দি-পারতুয়ান আগং’। রাজার পদটি একেবারেই আনুষ্ঠানিক এবং তিনি নিয়মিত সরকার পরিচালনার কোনো কার্যক্রমে অংশ নেন না। দেশটির সংবিধানে রাজতন্ত্রের পদ্ধতিটি একেবারেই ভিন্ন ধরনের। দেশটির নয়টি রাজ্যের মধ্যে প্রতি পাঁচ বছর পর পর রাজা নির্বাচিত হন ক্রমানুসারে।
তবে কিছুদিন আগে দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন ভাবে রাজার পদ থেকে সরে গিয়েছিলেন কেলানতান প্রদেশের সুলতান পঞ্চম মুহাম্মদ। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দু’বছরের মাথায় রাজার মুকুট ত্যাগ করেন তিনি, যা দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঘটলো। সুলতান মুহাম্মদ যখন রাজা হন তখন তার বয়স মাত্র ৪৭ বছর ছিলো। তিনি দুর্গম রাস্তায় গাড়ি চালানো এবং শুটিংয়ের মতো দুঃসাহসিক খেলাধুলায় অংশ নিতে পছন্দ করতেন। গত নভেম্বরে তিনি প্রথমে চিকিৎসা ছুটি নেন। পরে ওই মাসের শেষের দিকে তার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, যাতে দেখা যায় যে মস্কোতে তিনি সাবেক মিস মস্কোর সাথে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন। যদিও তার পদত্যাগের কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। নতুন রাজা আগামী ৩১ জানুয়ারি শপথ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ইয়াং দি-পারতুয়ান আগং প্রথাটি শুরু হয় ১৯৫৭ সালে ফেডারেশন অব মালয় ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভের পর। দেশটিতে মোট তেরোটি রাজ্য আছে। প্রতিটি রাজ্যের একটি করে আসন আছে কনফারেন্স অব রুলারস-এ। তবে এর মধ্যে নয়টি রাজ্যে প্রথাগত মালয় শাসক আছে। প্রতি পাঁচ বছর পর এ নয়টি রাজ্যের সুলতানরা ভোট দিয়ে নিজেদের মধ্যে একজনকে রাজা নির্বাচন করেন। যে নয়জন ভোট দিতে পারবেন তাদের প্রত্যেককে একটি করে ব্যালট পেপার দেয়া হয়, আর ওই সে ব্যালট পেপারে একটিই নাম থাকে। কারণ পরবর্তী রাজা কোন রাজ্য থেকে হবেন সেটি সিরিয়াল অনুযায়ী আগেই সবার জানা।
তবে সুলতানরা সর্বসম্মতভাবে ঠিক করেন যে রাজা হতে যাওয়া সুলতান এই কাজের জন্য যোগ্য কিনা। রাজা হতে হলে পাঁচটি ভোট অবশ্যই পেতে হবে। তবে যদি কোনো কারণে সেটি না হয় বা সিরিয়ালে থাকা সুলতান দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটি পুনরায় হবে। সেক্ষেত্রে ব্যালটে এরপরের রাজ্যের সুলতানের নাম থাকবে। তবে কোন সুলতান কিভাবে ভোট দিয়েছেন, তা যাতে গোপন থাকে সেটি নিশ্চিত করতে নয় রাজ্যের নয় শাসককে সংখ্যাবিহীন ব্যালট পেপার দেয়া হয়। আর সাথে দেয়া হয় একই রকমের কলম ও কালি।
রাজার পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক এবং দেশটিতে ক্ষমতা মূলত পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর হাতে। কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়ার দায়িত্ব তার। যেমন, প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি নিজেই মালয়েশিয়ায় ইসলাম ধর্মের নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চীফ। আবার ক্ষমা মঞ্জুর করার ক্ষমতা আছে তার। সাবেক বিরোধী নেতা আনোয়ার ইব্রাহীমকে যেমন গত বছর নির্বাচনের পর পূর্ববর্তী রাজা ক্ষমা করেছিলেন। আনোয়ার এ ক্ষমার কারণেই আদালতের দেয়া সাজা থেকে অব্যাহতি পেয়েছিলেন।
ইয়াং দি-পারতুয়ান আগং খুবই মর্যাদার বিষয়। বিশেষ করে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয় মুসলমানদের মধ্যে। যে কারণে রাজা মালয় ও ইসলামী প্রথার মর্যাদা রক্ষায় সচেষ্ট থাকেন। রাজার সমালোচনা করলে জেলের ঝুঁকি আছে। সম্প্রতি রাজার পদত্যাগের পর অনলাইনে নজরদারীর মাধ্যমে রাজার সমালোচনা হয়েছে এমন কয়েক জনকে চিহ্নিত করে নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার ঘটনা ঘটেছে।




