সত্য তুলে ধরলেন তারানা হালিম
কৃতত্ব জাহির করার অভ্যেস আমার কখনোই ছিল না। প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় মাঝের বা পেছনের সারিতেই বসেছি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। লাইনে দাড়িয়েই লিফটে উঠেছি, এটাই তো স্বাভাবিক। নিজেকে জাহির করার অভ্যেস এখন ও নেই আমার, কিন্তু বঙ্গবন্ধু সংকৃতিক জোট এর সদস্যদের অনুরুধ সত্যটা যেভাবে হাইজ্যাক হতে চলছে তা বন্ধ করতে সত্যটা তুলে ধরা দরকার।
২০১৪ সালে বিএনপি জামাতের অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু সংকৃতিক জোট মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, ছাত্র, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, চিকিৎসক, আইনজীবি সকলকে সচেতন নাগরিক সমাজ এর ব্যনারে রাজপথে একত্রিত ও সোচ্ছার করেছিল। সেদিন যারা অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। তারা দেশের মানুষকে ভালোবেসে, মানবতার পক্ষেই রাজপথে সোচ্ছার হয়েছিলেন। আমি নিজ হাতে মুক্তিযোদ্ধা জালাল, মতিন ভাইসহ নিহতদের নামের তালিকা টাঙিয়ে দিয়েছিলাম (সব ছবি সংগ্রহ আছে)। সেদিন কোন কিছু পাবার প্রত্যাশা নিয়ে নয় মানবতাকে জয়ী করার জন্য আন্দোলন হয়েছিল। কেউ সেদিন কোন কৃতিত্ব নেবার জন্য আসেননি, মানুষকে ভালবেসে এসেছিলেন, এসেছিলেন অগ্নিসস্ত্রাসের শিকার স্বজনরাও।
আজ দেখলাম, এই সেদিন আসা একজন দাবী করেছেন, তার সংগঠন এই আন্দোলন করেছে। সেই দিনতো সেই সংগঠনের জন্মই হয়নি, এর নাম করনও হয়নি! তাহলে একথা তিনি লিখলেন কিভাবে? সেই সংগঠন তখন এলো কোথা থেকে? হায় সেলুকাস, বিচিত্র এই পৃথিবী। মাঝে মাঝে নিজেকে এই পৃথিবীতে unfit মনে হয়। মানুষের জন্য যে কাজ করেছি তা জাহির করতে হবে কেন- এই ভাবনা থেকে চুপ থেকেছি। যেহেতু আমি মনোনয়ন প্রত্যাশী নয়, তাই আমার এই লেখার পেছনে সত্যটা জানানো ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্য নেই।বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট সব সময় মানুষের পাশে থাকবে। তবে প্লিজ রাজনীতি যে মানবতার জন্য অবিরাম কাজ করে, সেই রাজনীতিকে সম্মান জনক জায়গায় রাখি, রাজনীতির অসুস্থ প্রতিযোগীতায় নিজ স্বার্থের জন্য মানবতাকে অপমান না করি আমরা। (ফেসবুকে লিখেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম)।




