252890

যেখানেই থাকেন, বাবা যেন ভালো থাকেন: আসিফ ইমতিয়াজ

‘বুদ্ধিজীবীদের পাশে বাবার স্থান করে দেয়াতে আমরা অনেক খুশি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’ গতকাল বুধবার বাবার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে এ কথা বলেন প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের ছেলে আসিফ ইমতিয়াজ।গতকাল নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা পর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয় আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে। কেননা তাকে দাফন বিষয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল।এর আগে বুলবুলের ছেলে আসিফের দাবি ছিল, তার বাবাকে যেন বুদ্ধিজীবীদের পাশে দাফন করা হয়।

কিন্তু বিকেলে দেখা যায়, বুদ্ধিজীবীদের কবরের পাশে কোনো খবর খোঁড়া হয়নি। খোঁড়া হয়েছে কবরস্থানের উত্তর পাশে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে।এতে তার পরিবার থেকে আপত্তি জানানো হয়। একসময় তারা সিদ্ধান্ত নেন, বুদ্ধিজীবীদের পাশে স্থান না পেলে বুলবুলের মরদেহ আজিমপুর কবরস্থানে নিয়ে যাবেন।পরে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলকে মিরপুর বুদ্ধিজীবীদের কবরের পাশেই দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।বুদ্ধিজীবী কবরস্থান জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে বাদ মাগরিব সন্ধ্যা ৭টার সময় দেশের প্রখ্যাত এই সংগীতজ্ঞকে দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে আসিফ ইমতিয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন,‘দেশের মানুষ বাবাকে কতটা ভালোবাসে, আমি তা নিজের চোখে দেখেছি। বাবা তার যোগ্য স্থান পেয়েছেন। এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ’এতে বুলবুলের পরিবার ও স্বজনদের সবাই খুশি।প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বুলবুলের ছোট বোন রোকসানা জানান, ‘আমরা অনেক খুশি। আমার ভাই তার যথাযথ সম্মানটুকু পেয়েছে। সারা জীবন দেশের জন্য যা করেছেন তার প্রতিদান পেয়েছেন তিনি।’প্রসঙ্গত, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল ১৯৭৮ সালে ‘মেঘ বিজলী বাদল’ ছবিতে সংগীত পরিচালনার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করেন। তিনি স্বাধীনভাবে গানের অ্যালবাম তৈরি করেছেন এবং অসংখ্য চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনা করেছেন।

তার সুরের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে ‘সেই রেললাইনের ধারে’, ‘সব কটা জানালা খুলে দাও না’, ‘সুন্দর সুবর্ণ তারণ্য লাবণ্য’, ‘আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন’, ‘আম্মাজান আম্মাজান’, ‘পড়ে না চোখের পলক’, ‘ও মাঝি নাও ছাইড়া দে ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, ‘এই বুকে বইছে যমুনা’ ইত্যাদি।মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল আফতাবনগরের নিজ বাসায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ad

পাঠকের মতামত